কোচবিহারে এসটিএফ-এর মেগা অপারেশনে ৩ কোটির ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার ৩ আন্তর্জাতিক পাচারকারী
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের এক বড়সড় পর্দাফাঁস করল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। শিলিগুড়ি এসটিএফ ব্রাঞ্চ এবং কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে কোচবিহার শহরের ঐতিহ্যবাহী রাজমাতা দিঘি সংলগ্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ‘ইয়াবা’ (Yaba) ট্যাবলেটসহ তিন আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের কাছ থেকে প্রায় ৬ কেজি নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
অসম থেকে শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন ফলো’
সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদক চোরাচালানের একটি বড়সড় চালানের খবর গোপন সূত্রে পৌঁছেছিল শিলিগুড়ি এসটিএফ আধিকারিকদের কাছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এসটিএফ-এর একটি বিশেষ টিম অসমের গোঁসাইগাঁও স্টেশন থেকে ওই তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ট্র্যাক বা ফলো করা শুরু করে। পাচারকারীরা ট্রেন ও সড়ক পথ বদলে কোচবিহার শহরে প্রবেশ করলেও, এসটিএফ-এর গোয়েন্দারা ছায়ার মতো তাঁদের পিছু ধাওয়া করতে থাকেন।
রাজমাতা দিঘির পাড়ে যৌথ অ্যাকশন
রবিবার গভীর রাতে পাচারকারীরা যখন কোচবিহার শহরের রাজমাতা দিঘি সংলগ্ন এলাকায় এসে পৌঁছায়, ঠিক তখনই শিলিগুড়ি এসটিএফ ও স্থানীয় কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাঁদের আটকে দেয়। এরপর তাঁদের সাথে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করতেই উদ্ধার হয় প্রায় ৬ কেজি ওজনের নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেটের প্যাকেটগুলি। ঘটনাস্থল থেকেই তিনজনকে গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (NDPS Act) অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে।
ধৃতদের পরিচয় ও বাংলাদেশ কানেকশন
পুলিশ জানিয়েছে, হাতেনাতে ধৃত ওই তিন ব্যক্তির নাম যথাক্রমে— শাহজালাল খন্দকার, মারুফ মিয়া এবং আইনুদ্দিন শেখ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসটিএফ জানতে পেরেছে, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটগুলি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। উত্তর-পূর্ব ভারত বা অসমের কোনও রুট হয়ে এই মাদক কোচবিহারে আনা হয়েছিল ওপার বাংলায় বড়সড় চালানের জন্য। এই চক্রের পেছনে ভারত ও বাংলাদেশের আর কোন কোন বড় রাঘববোয়াল জড়িত রয়েছে, তা জানতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ইতিমধ্যেই ম্যারাথন জেরা শুরু করেছেন এসটিএফ-এর আধিকারিকেরা।
কোচবিহার এসটিএফ অভিযান (FAQ)
প্রশ্ন: কোচবিহারে এসটিএফ-এর অভিযানে কী উদ্ধার হয়েছে?
উত্তর: কোচবিহারের রাজমাতা দিঘি এলাকা থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার ৬ কেজি নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে এসটিএফ।
প্রশ্ন: এই মাদক পাচারের অভিযোগে কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?
উত্তর: এই ঘটনায় তিন আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীকে (শাহজালাল খন্দকার, মারুফ মিয়া এবং আইনুদ্দিন শেখ) হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রশ্ন: মাদকগুলি কোথায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল?
উত্তর: প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অসম হয়ে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে কোচবিহারে আনা হয়েছিল।