সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ৫৯ দিনের মাথায় চার্জশিট! মালদহের মোথাবাড়ি কাণ্ডে মূল চক্রী মোফাক্কেরুল-সহ ৩১ জনের নাম পেশ NIA-র
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: মালদহের মোথাবাড়িতে এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় অফিসারদের আটকে রাখার ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই, অর্থাৎ ঘটনার মাত্র ৫৯ দিনের মাথায় মঙ্গলবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতে এই মামলার চার্জশিট জমা দিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।
কী ঘটেছিল মোথাবাড়িতে?
গত এপ্রিলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত জনতা কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতরে এসআইআরের কাজে নিযুক্ত ৭ জন বিচারবিভাগীয় অফিসারকে বেআইনিভাবে ঘেরাও করে এবং গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখে। পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলা গ্রহণ করে এবং প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ গত ১১ মে এনআইএ-কে দু'মাসের মধ্যে দ্রুত তদন্ত শেষ করার কড়া নির্দেশ দেয়।
চার্জশিটের মূল তথ্য ও অভিযুক্তরা
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, মোথাবাড়ি কাণ্ডে দায়ের হওয়া মোট ১২টি এফআইআর-এর (FIR) মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ৪টি মামলায় চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। এই চার্জশিটে মোট ৩১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
- ৪টি মামলার মধ্যে একটিতে ১৫ জন এবং অপরটিতে ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বাকি দু'টি মামলায় ৩ জন করে অভিযুক্ত রয়েছে।
- এর মধ্যে দু'টি মামলায় সরাসরি নাম রয়েছে ঘটনার 'মূল চক্রী' বা মাস্টারমাইন্ড মোফাক্কেরুল ইসলামের। পাশাপাশি একরামুল বাদনানি বা আক্রামুল বাগানির নামও রয়েছে এই চার্জশিটে।
কীভাবে গ্রেফতার হয় মোফাক্কেরুল?
পুলিশ ও সিআইডি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, অশান্তি ছড়ানোর আগে কালিয়াচকে একটি টোটোয় দাঁড়িয়ে উত্তেজক ভাষণ দিয়ে জনতাকে প্ররোচিত করেছিল মোফাক্কেরুল। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক ছিল। অবশেষে একরামুলের সাহায্যে একটি বাইকে চেপে আলিপুরদুয়ার থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছায় সে। সেখান থেকেই সিআইডি তাদের গ্রেফতার করে।
চার্জশিটে উল্লিখিত অভিযোগ
এনআইএ তাদের চার্জশিটে স্পষ্ট করেছে যে, অভিযুক্তরা বেআইনিভাবে জড়ো হয়ে রাস্তা আটকায় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিচারকদের ঘেরাও করে রাখে। ডিজিটাল প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই এই চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া নজরদারিতে এনআইএ-র এই দ্রুত তদন্তপ্রক্রিয়া ও চার্জশিট পেশ, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও তদন্তের নিরিখে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
উত্তরবঙ্গ সহ গোটা রাজ্যের অপরাধ, প্রশাসন এবং আদালতের লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে
🌐 sangbadekalavya.inসংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ (Disclaimer): এই প্রতিবেদনটি এনআইএ (NIA) এবং সিআইডি (CID)-র পেশ করা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।