আবাস যোজনার ‘কাটমানি’ ফেরত দিতেই গণরোষ! কোচবিহারের নাটাবাড়িতে পঞ্চায়েত সদস্যকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিনিধি, নাটাবাড়ি: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর কাটমানি ও দুর্নীতি রুখতে প্রশাসনের কড়া অবস্থানের মাঝেই এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল কোচবিহার। আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নামে নেওয়া ‘কাটমানি’র টাকা উপভোক্তাদের হাতে হাতে ফেরত দিতে বাধ্য হলেন এক পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর স্বামী। কিন্তু টাকা ফেরত পেলেও ক্ষোভ কমেনি জনমানসে। উল্টে টাকা ফেরত দেওয়ার পরপরই ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা ওই পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর স্বামীকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখালেন। শুক্রবার নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের পানিশালা অঞ্চলের ১৮৮ নম্বর বুথ এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায়।
হাতে হাতে টাকা ফেরত দিলেন পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর স্বামী
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিশালা অঞ্চলের ১৮৮ নম্বর বুথের তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য সুনন্দা রায় সরকার এবং তাঁর স্বামী চিরঞ্জিত সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বেআইনিভাবে মোটা অঙ্কের টাকা (কাটমানি) নেওয়ার অভিযোগ উঠছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বকেয়া টাকা ফেরতের দাবিতে তাঁদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছিলেন গ্রামবাসীরা। বেগতিক বুঝে এদিন ওই দম্পতি উপভোক্তাদের ডেকে এনে সেই কাটমানির টাকা হাতে হাতে ফিরিয়ে দেওয়া শুরু করেন।
টাকা ফিরতেই রণক্ষেত্র পানিশালা, চলল ডিম বৃষ্টি
সাধারণত কাটমানির টাকা ফেরত পেলে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কথা থাকলেও, পানিশালায় ঘটল ঠিক তার উল্টো। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে কেন তাঁদের ঘাম ঝরানো টাকা কাটমানি হিসেবে দিতে হবে এবং এতদিন ধরে কেন তাঁদের হেনস্থা করা হলো? টাকা ফেরত দেওয়া শেষ হতেই বুথের ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা একজোট হয়ে ওই পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্ষিপ্ত জনতা সুনন্দা রায় সরকার ও চিরঞ্জিত সরকারকে লক্ষ্য করে একের পর এক কাঁচা ডিম ছুড়তে শুরু করেন। গোটা এলাকা মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের রূপ নেয়।
তুঙ্গে রাজনৈতিক চর্চা
টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি পরোক্ষভাবে দুর্নীতির অভিযোগকেই সিলমোহর দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে এই ডিম ছুড়ে প্রতিবাদের ঘটনা নিয়ে মহকুমা বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাটাবাড়ি তথা গোটা কোচবিহার জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।