রথযাত্রা ২০২৬: পুণ্যময় এই যাত্রার পূর্ণাঙ্গ সময়সূচী ও বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান
নিজস্ব প্রতিবেদন: হিন্দু ধর্মে পুরীর জগন্নাথ রথযাত্রা অত্যন্ত পবিত্র এবং পুণ্যময় একটি উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, যে কোনও ভক্ত যদি সত্যিকারের ভক্তিভরে এই যাত্রায় অংশগ্রহণ করেন বা প্রভুর রথের রশি টানেন, তবে তাঁর জীবনের সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয়। মনে করা হয়, রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করলে একজন ব্যক্তি একশটি যজ্ঞ করার সমান পুণ্যফল লাভ করেন। ঠিক এই কারণেই প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত আধ্যাত্মিক শান্তি এবং মোক্ষ লাভের আশায় এই যাত্রায় অংশ নিতে পুরীতে ছুটে আসেন।
জগন্নাথ রথযাত্রা ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ সময়সূচী
আগামী ২০২৬ সালের রথযাত্রার নির্ঘণ্ট ও তিথি অনুযায়ী এই পুণ্যময় উৎসবের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচী নিচে তুলে ধরা হলো:
- ১৬ জুলাই, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) – রথযাত্রা শুরু: এই দিন ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা পুরীর জগন্নাথ মন্দির থেকে তিনটি ভিন্ন বিশাল রথে চড়ে গুন্ডিচা মন্দিরের দিকে যাত্রা শুরু করেন। হাজার হাজার ভক্ত ভক্তিভরে ভারী দড়ি দিয়ে এই রথগুলিকে টেনে নিয়ে যান। রথে আরোহণের আগে পুরীর গজপতি রাজা 'ছেড়া পাঁহারা' (Chhera Pahanra) অনুষ্ঠানটি পালন করেন, যেখানে তিনি সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের মঞ্চ পরিষ্কার করেন।
- ২০ জুলাই, ২০২৬ (সোমবার) – হেরা পঞ্চমী: ভগবান জগন্নাথ গুন্ডিচা মন্দিরে পাঁচ দিন কাটানোর পর, পঞ্চম দিনে দেবী লক্ষ্মী তাঁর খোঁজ না পেয়ে ক্রুদ্ধ হন এবং ভগবান জগন্নাথের সাথে দেখা করতে গুন্ডিচা মন্দিরে আসেন। এই বিশেষ আচার ও অনুষ্ঠানকে 'হেরা পঞ্চমী' বলা হয়।
- ২৩ জুলাই, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) – সন্ধ্যা দর্শন: গুন্ডিচা মন্দিরে এই দিন বিশেষ দর্শনের আয়োজন করা হয়। ভক্তরা এদিন ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার দর্শন করেন, যা হিন্দু ধর্মে একটি অত্যন্ত শুভ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়।
- ২৪ জুলাই, ২০২৬ (শুক্রবার) – বাহুড়া যাত্রা: এই দিনে ভগবান জগন্নাথ তাঁর ভাই এবং বোনের সাথে রথে চড়ে পুনরায় মূল জগন্নাথ মন্দিরে ফিরে আসেন। এই প্রত্যাবর্তন যাত্রাকেই বলা হয় 'বাহুদা যাত্রা' বা উল্টো রথ। ফেরার পথে তাঁরা মাউশি মা মন্দিরে (Mausi Maa Temple) থামেন, যেখানে তাঁদের ওড়িশার একটি বিশেষ ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি 'পোড়া পিঠা' পরিবেশন করা হয়।
- ২৫ জুলাই, ২০২৬ (শনিবার) – সুনাবেশা: বাহুড়া যাত্রার পরদিন রথের উপরেই ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রাকে প্রচুর সোনার অলঙ্কার দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়। এটি একটি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও চোখধাঁধানো সাজসজ্জা, যা স্বচক্ষে দেখতে হাজার হাজার ভক্ত রথের চারপাশে ভিড় জমান।
- ২৬ জুলাই, ২০২৬ (রবিবার) – অধর পানা: সুনাবেশার পরদিন রথের উপর দেবতাদের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ মিষ্টি পানীয় পরিবেশন করা হয়, যাকে 'অধর পানা' বলা হয়। এটি বড় মাটির পাত্রে প্রস্তুত করা হয়, যাতে জল, দুধ, পনির, চিনি এবং বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী মশলা মিশ্রিত থাকে।
- ২৭ জুলাই, ২০২৬ (সোমবার) – নীলাদ্রি বিজয়া: এটি রথযাত্রার শেষ এবং সবচেয়ে আবেগঘন দিন। এই দিনে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা রথ থেকে নেমে তাঁদের মূল মন্দিরে প্রবেশ করেন এবং গর্ভগৃহে পুনরায় রত্নবেদীতে অধিষ্ঠিত হন। এটিকে 'নীলাদ্রি বিজয়' বলা হয়, যার আক্ষরিক অর্থ হলো— "নীলাচল (পুরী)-এ পুনরায় বিজয় বা প্রত্যাবর্তন"।
পুরীর রথযাত্রা সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: ২০২৬ সালের পুরীর রথযাত্রা কবে থেকে শুরু হবে?
উত্তর: পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পুরীর ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ রথযাত্রা শুরু হবে ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার)।
প্রশ্ন: হেরা পঞ্চমী কী?
উত্তর: রথযাত্রার পঞ্চম দিনে দেবী লক্ষ্মী যখন ভগবান জগন্নাথের সাথে দেখা করতে গুন্ডিচা মন্দিরে আসেন, সেই বিশেষ আচারকে হেরা পঞ্চমী বলা হয়। ২০২৬ সালে এটি ২০ জুলাই পালিত হবে।
প্রশ্ন: নীলাদ্রি বিজয়া বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: নীলাদ্রি বিজয়া হলো রথযাত্রার অন্তিম পর্ব। এই দিনে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা রথ থেকে নেমে পুনরায় মূল মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করেন।