মৃত্যুর তিন মাস পর তিন দিনব্যাপী খামেনেইয়ের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের ঘোষণা ইরানের, ২০ কোটি মানুষের জমায়েতের প্রস্তুতি
নিজস্ব প্রতিবেদন: প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পর তাঁর রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য এবং শোকমিছিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করল ইরান। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের জন্য তিন দিনব্যাপী এক বিশাল কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, যা তেহরান-সহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে অনুষ্ঠিত হবে।
শেষকৃত্যের মূল কর্মসূচি ও স্থান
তেহরানের ডেপুটি মেয়র মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলি-জাদেহ (Mohammad Amin Tavakoli-Zadeh) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)-এর মাধ্যমে এই মেগা শেষকৃত্যের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
- তিনটি প্রধান শহরে শোকমিছিল: এই তিন দিনের কর্মসূচি মূলত তিনটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে—রাজধানী তেহরান এবং শিয়া ধর্মাবলম্বীদের দুই পবিত্র শহর কোম (Qom) ও মাশহাদ (Mashhad)।
- তেহরানে ২৪ ঘণ্টার মেগা অনুষ্ঠান: শুধুমাত্র তেহরানেই মূল শেষকৃত্য ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানটি অন্তত ২৪ ঘণ্টা ধরে চলবে বলে জানানো হয়েছে।
- বিপুল জনসমাগমের প্রস্তুতি: তেহরানের প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই শোকমিছিলে প্রায় ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) মানুষের জমায়েত হতে পারে। এত বিশাল সংখ্যক মানুষের ভিড় সামলাতে ব্যাপক লজিস্টিক্যাল প্রস্তুতি নিচ্ছে পুরসভা ও প্রশাসন। জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই অনুষ্ঠানটি হতে পারে বলে জানিয়েছে ইরানের আরেক সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ (IRNA)।
কেন এত দেরি হলো শেষকৃত্যে?
ইসলামী ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর কয়েকদিনের মধ্যেই সাধারণত দাফন সম্পন্ন করার নিয়ম থাকে। তবে খামেনেইয়ের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
- গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনে নিজের বাসভবনেই নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী খামেনেই।
- মার্চ মাসের শুরুতেই ইরান প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়, দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এই ধরনের শেষকৃত্যে যে বিপুল জনস্রোত আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তা সামলানোর মতো লজিস্টিক সুবিধা এই মুহূর্তে তাদের নেই। মূলত সেই কারণেই এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সুপ্রিম লিডার
আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতাবা খামেনেই (Ayatollah Mojtaba Khamenei)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। যদিও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাঁকে এখনও পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে রাজত্ব করার পর খামেনেইয়ের এই প্রয়াণ এবং তার পরবর্তী এই মেগা শেষকৃত্য গোটা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির জন্যই এক ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বিশ্ব রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক খবরের লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে
🌐 sangbadekalavya.inসংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ (Disclaimer): এই প্রতিবেদনটি ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম (IRIB) এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।