Indus Water Treaty: 'এক ফোঁটা জলও পাবে না পাকিস্তান!' আগামী ২ বছরের মধ্যে সিন্ধুর জল সম্পূর্ণ আটকাতে কড়া পদক্ষেপ ভারতের
নিজস্ব প্রতিবেদন (জাতীয়): সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে, বিশেষ করে ২ বছরের লক্ষ্যমাত্রায় সিন্ধু নদ ব্যবস্থার এক ফোঁটা জলও যাতে পাকিস্তানে না যায়, তার জন্য সরকার জোরকদমে কাজ করছে বলে মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি. আর. পাটিল (C.R. Patil)।
নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সি. আর. পাটিল বলেন, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশিকায় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রত্যক্ষ নজরদারিতে সরকার এই বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে। আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি, কাজ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই এগোচ্ছে এবং আগামী বছরগুলোতে এক ফোঁটা জলও আর পাকিস্তানে যাবে না।"
চুক্তি স্থগিত রাখার কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি অনুযায়ী, পশ্চিমের তিনটি নদী (সিন্ধু, বিতস্তা বা ঝিলম এবং চন্দ্রভাগা বা চেনাব)-র জলের একটা বড় অংশের অধিকার পেয়েছিল পাকিস্তান। তবে গত এপ্রিল (২০২৫) মাসে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত কড়া পদক্ষেপ নিয়ে এই চুক্তিটিকে 'স্থগিত' (Abeyance) করে দেয়। পাটিল এদিন স্পষ্ট করেন যে, চুক্তিটি খাতায়-কলমে বাতিল করা হয়নি, বরং এটিকে স্থগিত রাখা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির সিদ্ধান্তের পর থেকেই জল আটকানোর সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কীভাবে এই জল ব্যবহার করবে ভারত?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মতে, পাকিস্তানগামী জল আটকে তা ভারতের নিজস্ব স্বার্থে কাজে লাগানো হবে। এই জল ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই একটি 'ডিটেইল্ড প্রজেক্ট রিপোর্ট' (DPR) তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে ভারতের একাধিক রাজ্য, যেমন— হরিয়ানা, পাঞ্জাব, দিল্লি এবং রাজস্থান এই জলের দ্বারা দারুণভাবে উপকৃত হবে।
এই জল আটকাতে ভারত যখন জম্মু ও কাশ্মীরে কিষাণগঙ্গা এবং রাটলে-র মতো একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুতগতিতে শেষ করতে চাইছে, তখন পাকিস্তান দ্য হেগ-এর আন্তর্জাতিক আদালতের (Court of Arbitration) দ্বারস্থ হয়। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সম্প্রতি এই আদালতের রায়কে সম্পূর্ণ "অবৈধ এবং ভিত্তিহীন" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ভারতের সাফ কথা, তারা এই আদালতের এক্তিয়ার স্বীকার করে না।
পাকিস্তানের ওপর প্রভাব
ভারতের এই কড়া সিদ্ধান্তের জেরে পাকিস্তানে ইতিমধ্যেই তীব্র জল সংকট দেখা দিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, করাচির প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা জলকষ্টে ভুগছে। তাছাড়া, পাকিস্তানের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমি এবং মোট জিডিপি-র ২৫ শতাংশ সরাসরি সিন্ধু নদ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ফলে জল আটকে দেওয়া হলে আগামী দিনে পাকিস্তানের অর্থনীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা বড়সড় ধাক্কা খেতে চলেছে।
সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাস্য (FAQ)
প্রশ্ন: ভারত কেন সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করেছে?
উত্তর: ক্রমাগত সীমান্ত সন্ত্রাস এবং গত এপ্রিল মাসে ভয়াবহ পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত এই চুক্তিটিকে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রশ্ন: পাকিস্তানের দিকে বয়ে যাওয়া জল ভারত কীভাবে ব্যবহার করবে?
উত্তর: সরকার একটি ডিপিআর (DPR) তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে এই জল ঘুরিয়ে ভারতের হরিয়ানা, পাঞ্জাব, দিল্লি এবং রাজস্থানের সেচ ও পানীয় জলের কাজে ব্যবহার করা হবে।
প্রশ্ন: এই সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের কতটা ক্ষতি হতে পারে?
উত্তর: পাকিস্তানের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমি সিন্ধু নদ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। জল আটকে দেওয়া হলে তাদের কৃষিকাজ এবং অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশ ও বিদেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের আপডেট এবং মেগা ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে।