'মমতা চাইলে রেজিনগর ছেড়ে দেব': দলনেত্রীর রাজনৈতিক দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোর বড় বার্তা প্রাক্তন তৃণমূলী হুমায়ুনের!
নিজস্ব প্রতিনিধি, মুর্শিদাবাদ: টানটান বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ এবং রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুর্শিদাবাদ তথা সামগ্রিক বঙ্গ রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব মোড়। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া এবং পরে নিজের দল গড়ে জোড়া আসনে জয়লাভের পর, এবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে এক বড়সড় ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রস্তাব দিলেন 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি' (AJUP)-র প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। ২০২৬-এর নির্বাচনী ধাক্কার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে হুমায়ুন জানালেন, নেত্রী চাইলে তিনি তাঁর জেতা 'রেজিনগর' বিধানসভা আসনটি ছেড়ে দিতে রাজি আছেন।
তৃণমূল থেকে বহিষ্কার ও নতুন দলের জয়:
প্রসঙ্গত, গত বছর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত নিজস্ব অনড় অবস্থানের জেরে হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে বহিষ্কার (সাসপেন্ড) করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এর পরেই তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে নিজের নতুন দল 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি' গঠন করেন। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের নওদা এবং রেজিনগর— দুটি আসনেই দাঁড়িয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হন হুমায়ুন। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন তাঁকে ছাড়তে হতো এবং তিনি ইতিমধ্যেই নওদার বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ফলে রেজিনগর আসনটিতে উপনির্বাচন হওয়া নিশ্চিত।
মমতার জন্য বিধানসভার পথ খোলার প্রস্তাব:
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যখন অত্যন্ত সংকটের মুখে, ঠিক তখনই সুর নরম করলেন মুর্শিদাবাদের এই দাপুটে নেতা। হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নন্দীগ্রাম থেকে ফের দাঁড়ান, তবে তিনি জিতে আসতে পারবেন না। কিন্তু তিনি যদি চান, তবে আমি তাঁকে রেজিনগর আসন থেকে জিতে বিধানসভায় পাঠাতে পারি। তবে তার জন্য নেত্রীকে আমার কাছে আসতে হবে। তিনি চাইলে আমি এই আসনটি তাঁর জন্য ছেড়ে দেব।"
'রেজিনগরে হুমায়ুনই শেষ কথা':
একদিকে যেমন দলনেত্রীর এই দুর্দিনে তাঁর প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন হুমায়ুন, তেমনই নিজের রাজনৈতিক প্রতিপত্তি মনে করিয়ে দিতেও ছাড়েননি তিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বর্তমান অবস্থা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, "আজকে ওঁর (মমতার) কথা হয়তো কেউ শুনছে না, কিন্তু রেজিনগর কেন্দ্রে হুমায়ুন কবীরই শেষ কথা।"
রাজনৈতিক মহলের মত
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে যিনি তৃণমূল সরকারের পতনের ডাক দিয়েছিলেন, ফল প্রকাশের পর তাঁর এই ভোলবদল এবং মমতাকে বিধানসভায় পাঠানোর এই প্রস্তাব অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। ভাঙনের মুখে পড়া তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই প্রস্তাবকে কীভাবে দেখবে কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দাক্ষিণ্য গ্রহণ করবেন কি না তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।