Bardhaman News: 'মিশন নির্মল বাংলা'-র শৌচাগারের ছাদেই উঠল তিনতলা বাড়ি! দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগে শোরগোল
সঞ্জিত কুড়ি, পূর্ব বর্ধমান: সরকারি সুলভ শৌচাগারের উপরে আস্ত তিন তলা বাড়ি! কী করে সম্ভব? তৃণমূলের আমলে যে সবই সম্ভব, তা ফের দেখা গেল পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েতের পাঠান পাড়া এলাকায়। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে খণ্ডঘোষ গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে 'মিশন নির্মল বাংলা' গড়তে এই শৌচাগারটি নির্মাণ করা হয়। সরকারি এই সুলভ শৌচাগারটির উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু। কিন্তু বর্তমানে সেই সরকারি শৌচাগারের উপরে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণ এবং ভবনের দুটি অংশ দুটি সংস্থাকে ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল।
কী বলছে ভবন কর্তৃপক্ষ?
বিতর্কের বিষয়ে ভবন কর্তৃপক্ষ শ্যামল কুমার আঁশ সাফাই দিয়ে বলেন, "খণ্ডঘোষ থানা মোড় থেকে এই পর্যন্ত কোনো সুলভ শৌচাগার নেই। গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে জানানো হয় এই এলাকাতে সরকারি কোনো জায়গা না থাকায় সুলভ শৌচাগার করা সম্ভব নয়। তাদের কথা মতো এবং সাধারণ মানুষের কথা ভেবে আমি আমার নিজের জায়গাতেই একটি সরকারি সুলভ শৌচাগার নির্মাণের অনুমতি দিই। সেই সময় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল যে, এই সরকারি শৌচাগারের উপরে একটি ভবন নির্মাণ করা হবে।" তাঁর দাবি, ভবন নির্মাণের অনুমতি খণ্ডঘোষ গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষই তাঁকে দিয়েছেন।
দেবোত্তর সম্পত্তিতে জবরদখল? স্থানীয়দের অভিযোগে চাঞ্চল্য
যদিও ভবন কর্তৃপক্ষের এই দাবি মানতে নারাজ স্থানীয় বাসিন্দারা। এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পা ঘোষ বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, "যেখানে সরকারি শৌচাগার ও তিনতলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেই জায়গাটি আদতে শ্রী শ্রী মদন গোপাল জিউ ঠাকুরের দেবোত্তর সম্পত্তি। ওই ব্যক্তি জোরজবরদস্তি জায়গাটি আটকে রেখেছেন এবং সেখানেই বেআইনিভাবে সরকারি শৌচাগার ও ভবন নির্মাণ করেছেন।" এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমানে খণ্ডঘোষ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
খণ্ডঘোষ শৌচাগার বিতর্ক (FAQ)
প্রশ্ন: পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে কী নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে?
উত্তর: খণ্ডঘোষ গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঠান পাড়া এলাকায় একটি সরকারি সুলভ শৌচাগারের উপরে আস্ত তিনতলা বাড়ি নির্মাণ এবং তা দুটি সংস্থাকে ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রশ্ন: শৌচাগারটি কবে এবং কাদের উদ্যোগে তৈরি হয়?
উত্তর: ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে 'মিশন নির্মল বাংলা' প্রকল্পের আওতায় খণ্ডঘোষ গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে এই সরকারি শৌচাগারটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
প্রশ্ন: ভবন মালিক ও স্থানীয়দের দাবি কী?
উত্তর: ভবন মালিকের দাবি, তিনি নিজের জায়গাতেই পঞ্চায়েতের অনুমতি নিয়ে এই নির্মাণ করেছেন। অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই জায়গাটি শ্রী শ্রী মদন গোপাল জিউ ঠাকুরের দেবোত্তর সম্পত্তি, যা জোরজবরদস্তি দখল করা হয়েছে।