গ্লোবাল উইন্ড ডে ২০২৬: বায়ু শক্তিতে বিশ্বের চতুর্থ স্থানে ভারত, গোয়ায় মেগা সম্মেলনের আয়োজন
নিজস্ব প্রতিবেদন, নয়াদিল্লি: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই এবং দূষণমুক্ত শক্তির ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে আজ, ১৫ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে 'গ্লোবাল উইন্ড ডে' (Global Wind Day 2026) বা বিশ্ব বায়ু দিবস। এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে ভারত আজ গোয়াতে একটি মেগা সম্মেলনের আয়োজন করেছে, যার মূল থিম বা বিষয় হলো— "বায়ু শক্তি: আশা থেকে উন্নয়নে রূপান্তর" (Wind Energy: From Ambition to Acceleration)।
পিআইবি (PIB) কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক অফিশিয়াল রিপোর্ট অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (CEA), সোলার এনার্জি কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (SECI), ইন্ডিয়ান রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (IREDA), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ উইন্ড এনার্জি (NIWE)-সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় রাজ্য সরকারি ও শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়
এই মেগা সম্মেলনে মূলত বায়ু শক্তির পরবর্তী ধাপের উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
- বায়ু প্রবাহের পূর্বাভাস ও নবায়নযোগ্য শক্তিকে স্থিতিশীল করা।
- গ্রিড ব্যবস্থার প্রস্তুতি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি।
- আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য ভারতের "উইন্ড টারবাইন রপ্তানি বৃদ্ধি" শীর্ষক একটি শিল্প প্রতিবেদন প্রকাশ করা।
বায়ু শক্তিতে ভারতের অবিশ্বাস্য অগ্রগতি ও পরিসংখ্যান
বায়ু শক্তি উৎপাদনে ভারত বর্তমানে অভাবনীয় গতিতে এগোচ্ছে। বর্তমানে স্থাপিত বায়ু শক্তি ক্ষমতার (Wind Power Capacity) ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে।
ক্যাপাসিটি এবং উৎপাদন বৃদ্ধি:
- ২০১৪ সালের মার্চ মাসে ভারতের স্থাপিত বায়ু শক্তি ক্ষমতা ছিল ২১.০৪ গিগাওয়াট, যা ২০২৬ সালের মার্চ মাসে প্রায় ২.৬৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৬.০৯ গিগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।
- ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত রেকর্ড পরিমাণ ৬.০৫ গিগাওয়াট বায়ু শক্তি ক্ষমতা যুক্ত করেছে। বর্তমানে আরও ২৮ গিগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
- দেশের উৎপাদিত বায়ু শক্তির প্রায় ৪৫% বিদ্যুৎ, চাহিদার পিক-আওয়ার বা সর্বোচ্চ চাহিদার সময় পাওয়া যায়, যা গ্রিডের নির্ভরযোগ্যতা বহুগুণ বাড়ায়।
কোথায় আছে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা?
ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫০ মিটার উচ্চতায় ভারতের আনুমানিক বায়ু শক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা প্রায় ১,১৬৩.৯ গিগাওয়াট। এর সিংহভাগই দেশের ৮টি রাজ্যের ওপর নির্ভরশীল:
- রাজস্থান: ২৮৪.২ গিগাওয়াট
- গুজরাট: ১৮০.৮ গিগাওয়াট
- মহারাষ্ট্র: ১৭৩.৯ গিগাওয়াট
- কর্ণাটক: ১৬৯.৩ গিগাওয়াট
- অন্ধ্রপ্রদেশ: ১২৩.৩ গিগাওয়াট
- তামিলনাড়ু: ৯৫.১ গিগাওয়াট
- মধ্যপ্রদেশ: ৫৫.৪ গিগাওয়াট
- তেলেঙ্গানা: ৫৪.৭ গিগাওয়াট
সরকারের মেগা উদ্যোগ ও আর্থিক সহায়তা
বায়ু শক্তির প্রসার এবং উপকূলবর্তী (Offshore) উন্নয়নের জন্য সরকার ইতিমধ্যেই বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
- গুজরাট ও তামিলনাড়ু উপকূলে মোট ১,০০০ মেগাওয়াটের অফশোর উইন্ড প্রকল্পের জন্য ৬,৮৫৩ কোটি টাকার ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ডিং (VGF) অনুমোদন করা হয়েছে।
- ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে জেনারেশন বেসড ইনসেনটিভ (GBI) স্কিমের অধীনে ৫০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
- নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলার জন্য ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে একটি বিশেষ 'টাস্ক ফোর্স' গঠন করা হয়েছে।
- গ্রিডের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য হাইব্রিড এবং রাউন্ড-দ্য-ক্লক (RTC) নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পগুলিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং আগামী পথ
এই ক্ষেত্রে দ্রুত প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং গ্রিড একীকরণের জন্য ভারত ইতিমধ্যেই ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য (UK) এবং বেলজিয়ামের মতো দেশগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।
ভারতের বিশাল বায়ু সম্পদ, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট এবং ২০৩৬ সালের মধ্যে ১৫৬ গিগাওয়াট বায়ু শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করছে। নতুন রাজ্যে সম্প্রসারণ, এআই (AI) ভিত্তিক পূর্বাভাসের সরঞ্জাম ব্যবহার এবং শক্তিশালী সঞ্চালন পরিকাঠামোর মাধ্যমে ভারত বায়ু শক্তিকে কেবল জলবায়ু রক্ষায় নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চলেছে।
গ্লোবাল উইন্ড ডে (FAQ)
প্রশ্ন: গ্লোবাল উইন্ড ডে কবে পালিত হয় এবং ২০২৬ সালের থিম কী?
উত্তর: প্রতি বছর ১৫ জুন গ্লোবাল উইন্ড ডে পালিত হয়। ২০২৬ সালে ভারতের সম্মেলনের থিম হলো "বায়ু শক্তি: আশা থেকে উন্নয়নে রূপান্তর" (Wind Energy: From Ambition to Acceleration)।
প্রশ্ন: স্থাপিত বায়ু শক্তি ক্ষমতার ক্ষেত্রে বিশ্বে ভারতের অবস্থান কত?
উত্তর: স্থাপিত বায়ু শক্তি ক্ষমতার (Wind Power Capacity) ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত বর্তমানে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
প্রশ্ন: ভারতের কোন রাজ্যে বায়ু শক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি?
উত্তর: সরকারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের রাজস্থানে (২৮৪.২ গিগাওয়াট) বায়ু শক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এরপরেই রয়েছে গুজরাট ও মহারাষ্ট্র।
দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক মেগা প্রজেক্ট এবং ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে!