গভীর রাতে উপপ্রধানের বাড়িতে হানা, বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ গ্রেফতার করল পুলিশ
সমীর হোসেন, সাহেবগঞ্জ: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী আবহে ফের বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার গভীর রাতে সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক যৌথ অভিযানে দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের বুড়িরহাট ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুনীল বর্মনকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ গাঁজাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনহাটা জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে।
গভীর রাতে উপপ্রধানের বাড়িতে হানা
বিশেষ সূত্রে গোপন খবর পেয়ে রবিবার গভীর রাতে বুড়িরহাট ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পটুয়ারডেরা এলাকায় উপপ্রধান সুনীল বর্মনের বাড়িতে আকস্মিক হানা দেয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় তদন্তকারীদের। বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ বস্তাবন্দি অবৈধ গাঁজা।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) লাহমি ওয়াই ওয়াংদি এবং সাহেবগঞ্জ থানার ওসি নকুল রায়ের উপস্থিতিতে পুরো অভিযান ও মাদক উদ্ধারের প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত উপপ্রধানের বাড়ি থেকে মোট ৮৩.০৯ কেজি অবৈধ গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় সুনীল বর্মনের বিরুদ্ধে এনডিপিএস (NDPS) বা মাদক বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জনরোষের পরেই পুলিশের জালে উপপ্রধান
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁদের দাবি, একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও সুনীল বর্মন নিজের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাঁজা চাষ করে আসছিল। শাসকদলের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সে এই মাদক চক্র চালাত। শুধু মাদক ব্যবসাই নয়, তার বিরুদ্ধে আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নামে উপভোক্তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কাটমানি বা টাকা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে রবিবার দুপুরে স্থানীয় ক্ষুব্ধ উপভোক্তারা সুনীলের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতে পুলিশের জালে ধরা পড়ে সে।
তৃণমূলের নীরবতা, আক্রমণাত্মক বিজেপি
এই লজ্জাজনক ঘটনায় ধৃত সুনীল বর্মনের পরিবারের সদস্য কিংবা তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির দিনহাটা ২ নম্বর মন্ডল সভাপতি প্রদীপ বর্মন কটাক্ষ করে বলেন, "তৃণমূলের প্রধান, উপপ্রধান—সবাই চোর এবং তারা প্রত্যেকেই কোনও না কোনও অবৈধ কাজের সাথে যুক্ত। আমরা চাই প্রশাসন দলমত নির্বিশেষে এই সমস্ত অপরাধীদের গ্রেফতার করুক এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।"
তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের বাড়ি থেকে প্রায় ৮৪ কেজি গাঁজা উদ্ধারের এই ঘটনা দিনহাটার আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সমীকরণকে যে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।
দিনহাটা, কোচবিহার সহ উত্তরবঙ্গের সমস্ত লোকাল ক্রাইম রিপোর্ট ও ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে
🌐 sangbadekalavya.inসংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ (Disclaimer): এই প্রতিবেদনটি সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশি অভিযান এবং স্থানীয় জনতার অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। অপরাধ ও তদন্তসাপেক্ষ বিষয়ে মহামান্য আদালতের রায় এবং পুলিশ প্রশাসনের রিপোর্টই চূড়ান্ত।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন