বড়শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় পরিদর্শনে বিধায়ক অজয় রায়, পরিষেবা সচল রাখতে দিলেন দ্রুত সমাধানের আশ্বাস
তপন বর্মন, দিনহাটা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে দিনহাটা মহকুমার একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান ও সদস্যদের গরহাজিরার কারণে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে বারবার অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও পঞ্চায়েত কর্মীদের সমস্যা মেটাতে এবার বড়শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় পরিদর্শনে গেলেন দিনহাটার বিধায়ক অজয় রায়। তিনি সেখানে চলমান প্রশাসনিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
পঞ্চায়েত কর্মীদের অনুরোধে পরিদর্শন
জানা গিয়েছে, দিনহাটার বড়শাকদল সবুজ পল্লী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বজরংবলী পূজার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন বিধায়ক অজয় রায়। সেখানে উপস্থিত বড়শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীদের বিশেষ অনুরোধেই তিনি পঞ্চায়েত কার্যালয় পরিদর্শনে যান।
প্রধানের অনুপস্থিতিতে থমকে পরিষেবা
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে দিনহাটা মহকুমার বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান এবং পঞ্চায়েত সদস্যদের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির অভিযোগ রয়েছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হলেও, বহু ক্ষেত্রেই গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের প্রত্যয়নপত্র ও প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের এই লাগাতার অনুপস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
বেতন বন্ধ, ক্ষুব্ধ কর্মীরাও
জনপ্রতিনিধিদের দেখা না মেলায় শুধুমাত্র সাধারণ মানুষই নন, পঞ্চায়েত কার্যালয়ের কর্মচারীরাও তীব্র সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁদের বেতন প্রদানসহ একাধিক প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে খোদ বিধায়ককে কাছে পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের সেক্রেটারি সমস্যাগুলি তাঁর গোচরে আনেন এবং দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানান।
বিধায়কের নির্দেশের পরেও কাজের কাজ হয়নি?
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ঘটনার আগেই বিধায়ক অজয় রায় তাঁর বিধানসভা এলাকার সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের নিয়ে দিনহাটা–২ ব্লক অফিসে একটি বৈঠক করেছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই বৈঠকে তিনি সকল জনপ্রতিনিধিকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সক্রিয় হওয়ার এবং নিয়মিতভাবে পঞ্চায়েতের কাজকর্ম পরিচালনার কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন।
কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বিধায়কের সেই নির্দেশের পরেও বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান ও সদস্যদের দীর্ঘ অনুপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। যার ফলে উন্নয়নমূলক কাজের গতি যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনই পঞ্চায়েতের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমও কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।
বিধায়কের আশ্বাস
পঞ্চায়েত কর্মীদের কাছ থেকে সমস্ত বিষয় মনোযোগ সহকারে শোনার পর বিধায়ক অজয় রায় আশ্বাস দেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অতি শীঘ্রই সমস্যাগুলির সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি স্পষ্ট জানান, সাধারণ মানুষের স্বার্থে উন্নয়নমূলক কাজ এবং প্রশাসনিক পরিষেবা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয় এবং স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামীকাল থেকেই প্রায় সব কাজ অনলাইনে শুরু হবে। তাতেও অনেকটা সমস্যা কমবে বলে তিনি মনে করেন।
বড়শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েত (FAQ)
প্রশ্ন: দিনহাটার বিধায়ক অজয় রায় কোন গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি বড়শাকদল সবুজ পল্লী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পূজায় যোগ দিতে এসে কর্মীদের অনুরোধে বড়শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।
প্রশ্ন: ওই পঞ্চায়েতে প্রধান সমস্যাটি কী?
উত্তর: বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যদের দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের পরিষেবা, উন্নয়নমূলক কাজ এবং কর্মচারীদের বেতন প্রদানের মতো প্রশাসনিক কাজগুলো ব্যাহত হচ্ছে।
প্রশ্ন: বিধায়ক অজয় রায় কর্মীদের কী আশ্বাস দিয়েছেন?
উত্তর: বিধায়ক আশ্বাস দিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যাগুলির সমাধান করা হবে এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা যাতে স্বাভাবিক থাকে তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
© ২০২৬ সংবাদ একলব্য। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।