WB Panchayat Recruitment 2026: রাজ্যজুড়ে ১১ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা! উত্তরবঙ্গ সফরে বড় ঘোষণা দিলীপ ঘোষের
নিজস্ব প্রতিবেদন, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ উন্নয়ন, পঞ্চায়েত পরিকাঠামো এবং পাহাড়ি এলাকার প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। শিলিগুড়ির একটি লজে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ ম্যারাথন বৈঠকের পর তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জট কাটতে শুরু করেছে এবং উত্তরবঙ্গের বুকে দ্রুত উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়িত হবে।
উন্নয়নে ১৭০০ কোটি টাকার তহবিল
দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের জেলাশাসক (DM), বিডিও (BDO) এবং সংশ্লিষ্ট পদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এদিন আবাস যোজনা, স্বচ্ছ ভারত মিশন, গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ এবং পানীয় জল প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে পঞ্চায়েত মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই ১৭০০ কোটি টাকার তহবিল রাজ্যের হাতে এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। বাকি কাজও খুব দ্রুত পর্যায়ক্রমে শুরু হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
রাজ্যজুড়ে ১১ হাজার কর্মী নিয়োগের মেগা ঘোষণা
বৈঠকে প্রশাসনিক আধিকারিকদের তরফ থেকে পঞ্চায়েত স্তরে কর্মী সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উঠে আসে। বহু এলাকায় পর্যাপ্ত কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ারের অভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে বলে জানানো হয়। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বড় ঘোষণা করে দিলীপ ঘোষ জানান, রাজ্যজুড়ে পঞ্চায়েত দপ্তরে প্রায় ১১ হাজার কর্মী নিয়োগের (Panchayat Recruitment) পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পর্যাপ্ত জনবল ছাড়া উন্নয়নের গতি বাড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়, তাই দ্রুত এই বিপুল শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পাহাড়ের পঞ্চায়েত পরিকাঠামোয় বিশেষ জোর
পাহাড়ি এলাকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থা নিয়েও এদিন দীর্ঘ আলোচনা হয়। পাহাড়ের জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, বহু এলাকায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা থাকলেও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বসার জন্য নেই পর্যাপ্ত অফিস বা পরিকাঠামো। ফলে সাধারণ মানুষ তাঁদের ন্যায্য ও কাঙ্ক্ষিত পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই অবস্থার দ্রুত পরিবর্তনে পাহাড়ে পঞ্চায়েত ও মহকুমা পরিষদের জন্য নতুন ভবন এবং পরিকাঠামো গড়ে তোলার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। পাহাড়ের মানুষের কল্যাণে পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।
গ্রামীণ রাস্তা, পাট্টা ও জব কার্ড
এদিনের বৈঠকে আধা-পাকা ও দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা গ্রামীণ রাস্তাগুলো সংস্কারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এনে এই রাস্তাগুলির দ্রুত উন্নয়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে বলে পঞ্চায়েত মন্ত্রী জানান। পাশাপাশি জমির পাট্টা প্রদান, ১০০ দিনের কাজের জব কার্ডভোগীদের বকেয়া মেটানো ও ভবিষ্যৎ অর্থপ্রদান নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দেন তিনি।
সব মিলিয়ে, শিলিগুড়ির এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ উন্নয়ন ও পাহাড়ের পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে নতুন গতি দেওয়ার এক স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল।
উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন সংক্রান্ত (FAQ)
প্রশ্ন: উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য পঞ্চায়েত মন্ত্রী কত টাকার ফান্ডের কথা জানিয়েছেন?
উত্তর: পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, রাজ্যের হাতে ইতিমধ্যেই ১৭০০ কোটি টাকার তহবিল এসেছে, যার মধ্যে ৭০০ কোটি টাকার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
প্রশ্ন: পঞ্চায়েত স্তরে কাজের গতি বাড়াতে কত শূন্যপদ পূরণের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ারের অভাব মেটাতে এবং প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করতে রাজ্যজুড়ে প্রায় ১১ হাজার পঞ্চায়েত কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রশ্ন: পাহাড়ের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা নিয়ে কী আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী?
উত্তর: পাহাড়ে পর্যাপ্ত অফিস ও পরিকাঠামোর অভাব মেটাতে পঞ্চায়েত ও মহকুমা পরিষদের জন্য নতুন পরিকাঠামো ও ভবন গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির উন্নয়ন, রাজ্য রাজনীতি, চাকরি এবং লেটেস্ট খবর সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে!