West Bengal News: সই-জালিয়াতি কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ সিআইডির! কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন অফিসে হানা
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: রাজ্যে বিধানসভার সই-জালিয়াতি কাণ্ডে এবার তদন্তের জাল আরও গুটোচ্ছে রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)। মঙ্গলবার এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়ে খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কালীঘাটের বাড়ি সংলগ্ন পার্টি অফিসে হানা দিল সিআইডির একটি বড় দল। এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার বিকেল থেকে কালীঘাট চত্বরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটস্থিত তৃণমূলের কেন্দ্রীয় পার্টি অফিসে পৌঁছয় সিআইডির আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে ছিল কালীঘাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং প্রচুর সংখ্যক মহিলা পুলিশও।
কেন এই সিআইডি হানা?
সিআইডি সূত্রে খবর, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারের কাছে যে চিঠি জমা দেওয়া হয়েছিল, তাতে একাধিক বিধায়কের সই জাল করার অভিযোগ রয়েছে। সেই চিঠিতে অন্যতম স্বাক্ষরকারী ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
এই সই জালিয়াতির তদন্তে সিআইডি অভিষেককে তিনবার নোটিস পাঠিয়ে ভবানী ভবনে তলব করেছে। সর্বশেষ নোটিসে তাঁকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অভিষেক বর্তমানে নয়াদিল্লিতে 'ইন্ডিয়া' (INDIA) জোটের বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন। তদন্তকারী এক আধিকারিকের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডির একটি আগের নোটিসের উত্তরে জানিয়েছিলেন যে বিধায়কদের ওই সই সংগ্রহ করা হয়েছিল ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের পার্টি অফিস থেকেই। সেই বয়ানের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার প্রমাণ সংগ্রহ ও তল্লাশির উদ্দেশ্যে সেখানে পৌঁছয় সিআইডি।
কালীঘাটে পুলিশের সঙ্গে বচসা
সিআইডি দল সেখানে পৌঁছনোর পর তৃণমূলের নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে তাঁদের বেশ কিছুক্ষণ বচসা হয়। দলের নেতা শুভাশিস চক্রবর্তীর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে তাঁরা সিআইডিকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন। তাঁর বক্তব্য, "অভিষেক এলেই সিআইডি তল্লাশি করতে পারে।" তবে কিছুক্ষণ বাদানুবাদের পর পুলিশের হস্তক্ষেপে গোয়েন্দারা ওই কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং তল্লাশি শুরু করেন।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল
এই মুহূর্তে দলের অন্দরে নজিরবিহীন ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই ৫৮ জন বিধায়ক এবং একাধিক শীর্ষ নেতা দল ছেড়ে বিরোধী গোষ্ঠী তৈরি করেছেন। এই চরম টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে খোদ দলের সুপ্রিমোর বাড়ির দোরগোড়ায় সিআইডি-র এই হানা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুজনেই নয়াদিল্লিতে রয়েছেন এবং সেখান থেকে তাঁরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
কালীঘাটে সিআইডি হানা সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাস্য (FAQ)
প্রশ্ন: কালীঘাটে তৃণমূলের পার্টি অফিসে কেন সিআইডি হানা দিল?
উত্তর: বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের চিঠিতে বিধায়কদের সই জালিয়াতি কাণ্ডের তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য সিআইডি এই তল্লাশি চালিয়েছে।
প্রশ্ন: এই ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম কেন জড়াচ্ছে?
উত্তর: চিঠিতে তাঁর স্বাক্ষর ছিল এবং তিনি গোয়েন্দাদের জানিয়েছিলেন যে বিতর্কিত সইগুলি ওই নির্দিষ্ট পার্টি অফিস থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছিল।
প্রশ্ন: সিআইডি দল যাওয়ার পর কী পরিস্থিতি তৈরি হয়?
উত্তর: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতির কারণ দেখিয়ে তৃণমূলের নিরাপত্তা রক্ষীরা প্রথমে সিআইডিকে বাধা দেয়, যার জেরে পুলিশের সাথে বচসার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে তল্লাশি শুরু হয়।
রাজ্য রাজনীতির সমস্ত মেগা ব্রেকিং আপডেট, ইনসাইড স্টোরি এবং লেটেস্ট খবর সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে।