Cooch Behar News: অসম সীমানায় গঙ্গাধর নদী থেকে দেদার বালি-পাথর পাচার! বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় বক্সিরহাটে তুমুল বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের
রাহুল দেব বর্মন, বক্সিরহাট: একদিকে বর্ষার ভ্রুকুটি, অন্যদিকে দেদার বালি-পাথর পাচারের জেরে নদী বাঁধ ভাঙার শঙ্কা! এই জোড়া আতঙ্কে এবার আন্তঃরাজ্য পাচার চক্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অসম সীমানা লাগোয়া তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের প্রত্যন্ত জয়গুরু গ্রামে গঙ্গাধর নদীকে কেন্দ্র করে অবৈধ বালি ও পাথর তোলার প্রতিবাদে সোমবার তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং পাচার রুখতে বক্সিরহাট থানায় একটি লিখিত স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন তাঁরা।
আন্তঃরাজ্য পাচার চক্রের দৌরাত্ম্য
স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘ দিন ধরেই জয়গুরু গ্রাম সংলগ্ন গঙ্গাধর নদীতে একটি আন্তঃরাজ্য বালি-পাথর পাচার চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারিকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশেষ যন্ত্রাংশ বসিয়ে দিনরাত নদীগর্ভ থেকে দেদার বালি ও পাথর তোলা হচ্ছে। এরপর সেইসব বালি ও পাথর ভারী ডাম্পার এবং ট্রাক্টর বোঝাই করে সোজা নদীর বাঁধের রাস্তা দিয়েই প্রতিবেশী রাজ্য অসমে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে। এই পাচার চক্রের নেপথ্যে অসমের একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর হাত রয়েছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের।
নদী বাঁধ ভাঙার শঙ্কা ও প্লাবনের ভয়
বালি-পাচার নিয়ে গ্রামবাসীদের সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হলো নদী বাঁধের নিরাপত্তা। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন নদী বাঁধের উপর দিয়ে যেভাবে একের পর এক ভারী যানবাহন যাতায়াত করছে, তাতে বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বর্ষা আসার আগেই বাঁধটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাঁধ ভাঙলে গোটা জয়গুরু গ্রাম প্লাবিত হবে এবং চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন সাধারণ মানুষ।
পুলিশের কাছে স্মারকলিপি ও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
গ্রামবাসীদের দাবি, এই অবৈধ কারবার রুখতে এর আগে একাধিকবার প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার একজোট হয়ে নদীপাড়ে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। উত্তেজিত জনতাকে তেড়ে আসতে দেখে বালি তোলার মেশিনপত্র ফেলে রেখেই চম্পট দেয় পাচারকারীরা।
এরপর অবৈধ বালি-পাথর পাচার স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে এবং নদী বাঁধ রক্ষার দাবিতে সোমবারই বক্সিরহাট থানায় একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেন গ্রামবাসীরা। অবিলম্বে পুলিশ ও প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
বক্সিরহাটে অবৈধ বালি পাচার (FAQ)
প্রশ্ন: বক্সিরহাটের কোন এলাকায় অবৈধ বালি-পাথর পাচারের অভিযোগ উঠেছে?
উত্তর: অসম সীমানা লাগোয়া তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের প্রত্যন্ত জয়গুরু গ্রামে গঙ্গাধর নদী থেকে অবৈধ বালি ও পাথর পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
প্রশ্ন: বালি পাচারের ফলে গ্রামবাসীদের প্রধান আশঙ্কা কী?
উত্তর: ভারী ডাম্পার ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে নদীর বাঁধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষার আগেই এই বাঁধ ভেঙে গোটা গ্রাম প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসীরা।
প্রশ্ন: পাচার রুখতে সোমবার গ্রামবাসীরা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
উত্তর: সোমবার নদীপাড়ে গিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি পাচার বন্ধ করতে এবং নদী বাঁধ রক্ষার দাবিতে বক্সিরহাট থানায় একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন গ্রামবাসীরা।