BREAKING
আজকের গুরুত্বপূর্ণ খবর • জেলার খবর • রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ খবর • দেশের বড় খবর • আন্তর্জাতিক খবর • বিনোদনের খবর • চাকরির আপডেট • সরকারি প্রকল্পের খবর •

২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের সদস্যপদ খারিজ হোক! লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

বিদ্রোহী সাংসদদের পদ খারিজের দাবি জানালো অভিষেক, Abhishek Banerjee Meets Om Birla, Disqualification of 20 TMC MPs, NCPI
স্পিকারের কাছে ২০ জন দলত্যাগী সাংসদের পদ খারিজের দাবি

নয়াদিল্লি: মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ফাটল ধরেছিল, তা এবার দিল্লির সংসদ ভবনে চরম আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপ নিল। লোকসভায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদের দলত্যাগ এবং এনসিপিআই (NCPI) দলে যোগ দেওয়ার পাল্টা হিসেবে এবার একযোগে অলআউট আক্রমণে নামল তৃণমূল নেতৃত্ব। শুক্রবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সশরীরে দেখা করে ওই ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের লোকসভার সদস্যপদ অবিলম্বে খারিজ করার দাবি তুললেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্পিকারের কাছে ২০টি পৃথক পিটিশন জমা

এদিন লোকসভায় তৃণমূলের প্রবীণ মুখ সৌগত রায়, দুঁদে আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও'ব্রায়েনকে সঙ্গে নিয়ে লোকসভা স্পিকারের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিজের দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) বা সংবিধানের দশম তফসিল (10th Schedule) মেনে ওই ২০ জন দলবদলু সাংসদের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক ২০টি সদস্যপদ বাতিলের আবেদন (Disqualification Petitions) স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

‘চিটিংবাজি’র রাজনীতি বরদাস্ত নয়, তোপ অভিষেকের

সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "কেউ তৃণমূলের প্রতীক (Symbol) নিয়ে ভোটে জিতে সাংসদ হবেন, আর ঠিক দু'বছরের মাথায় এসে দাবি করবেন যে তাঁরা অন্য একটি দলে যোগ দিচ্ছেন, এই ধরণের চিটিংবাজি ও অনৈতিক রাজনীতি চলতে পারে না। দশম তফসিল অনুযায়ী, যদি কোনও সদস্য স্বেচ্ছায় নিজের দল ত্যাগ করেন, তবে তাঁর সদস্যপদ অবিলম্বে খর্ব হওয়া উচিত।"

এনসিপিআই-এর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে খোঁচা

তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে স্বল্প পরিচিত দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগ দিয়ে লোকসভায় আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চেয়েছে এবং এনডিএ (NDA) জোটকে সমর্থনের ঘোষণা করেছে। এই বিষয়টিকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, "ওঁরা যে এনসিপিআই দলে যোগ দেওয়ার দাবি করছেন, সেই দলের নাম দেশের কেউ কোনওদিন শোনেনি। এমনকি যারা যোগ দিয়েছেন, তারাও আগে শোনেননি। দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও বিধানসভা বা লোকসভা দলের দুই-তৃতীয়াংশ ভাঙলেই তা বৈধ হয় না, মূল রাজনৈতিক দলটির দুই-তৃতীয়াংশ অংশ অন্য দলে মিশতে হয়। এখানে তা হয়নি।"

৩ মাসের মধ্যে সিদ্ধান্তের আর্জি ও পদত্যাগের চ্যালেঞ্জ

সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী একটি রায়ের নজির টেনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার ওম বিড়লাকে অনুরোধ করেছেন, যেন আগামী ৩ মাসের মধ্যে এই দলত্যাগ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি করা হয়। সেই সঙ্গে বিদ্রোহী সাংসদদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, "যদি ওঁদের এতই সততা ও নৈতিকতা থাকে, তবে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নতুন করে মানুষের দরবারে ভোট চাইতে যান। ভোটাররাই ঠিক করুক তারা কাকে চান।"

তৃণমূলের এই কড়া ও আইনি পদক্ষেপের পর, লোকসভার স্পিকার এই ২০ জন সাংসদের ভাগ্য নির্ধারণে কী ভূমিকা নেন এবং দিল্লির বুকে এই নজিরবিহীন সংসদীয় যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।

তৃণমূলের 'বিদ্রোহ' ও লোকসভার সাম্প্রতিক সংঘাত: FAQ

১. তৃণমূলের কতজন সাংসদ সম্প্রতি বিদ্রোহ করেছেন এবং তাঁরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

উত্তর: লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জেতা ২৯ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন সাংসদ দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তাঁরা কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে একটি স্বল্প পরিচিত রাজনৈতিক দল NCPI (Nationalist Citizens Party of India)-তে যোগ দেওয়ার (Merge) কথা ঘোষণা করেছেন এবং কেন্দ্রের শাসক জোট NDA-কে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।

২. NCPI (এনসিপিআই) আসলে কী ধরণের রাজনৈতিক দল এবং এর অফিস কোথায়?

উত্তর: নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, NCPI (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া) হলো ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি নথিভুক্ত হওয়া একটি 'Registered Unrecognised Political Party' (RUPP)। এই দলটির মূল প্রতিষ্ঠাতা হলেন উত্তীয় কুণ্ডু (সভাপতি) এবং তাঁর স্ত্রী শিউলি কুণ্ডু (কোষাধ্যক্ষ)। যদিও এই দলটির মূল শিকড় বা রেজিস্টার্ড অফিস রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার সাঁকরাইলের বাণীপুর এলাকায় (একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কার্যালয়ে)। এই দলটি ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিলেও একটি আসনেও জিততে পারেনি।

৩. তৃণমূলের ২০ জন সাংসদের দলবদলের পর লোকসভায় রাজনৈতিক সমীকরণ কী দাঁড়াচ্ছে?

উত্তর: এই ২০ জন সাংসদের দলবদল যদি লোকসভার স্পিকারের দ্বারা আইনি স্বীকৃতি পায়, তবে লোকসভায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা ২৯ থেকে কমে মাত্র ৮টিতে এসে দাঁড়াবে (১টি আসন আগেই শূন্য ছিল)। অন্যদিকে, কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন এনডিএ (NDA) জোটের শক্তি ২৯৪ থেকে বেড়ে ৩১৪-তে পৌঁছাবে, যা আসন্ন বাদল অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কৌশলগত সুবিধা দেবে।

৪. এই দলবদলের বিরুদ্ধে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?

উত্তর: তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষুব্ধ হয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি ওই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক ২০টি সদস্যপদ বাতিলের আবেদন (Disqualification Petitions) জমা দিয়েছেন এবং দলত্যাগ বিরোধী আইন মেনে অবিলম্বে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের দাবি তুলেছেন।

৫. আইনত এই সাংসদদের পদ কি খারিজ হতে পারে? 'দলত্যাগ বিরোধী আইন' কী বলে?

উত্তর: সংবিধানের দশম তফসিল (10th Schedule) বা দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) অনুযায়ী, কোনও নির্বাচিত সাংসদ যদি স্বেচ্ছায় তাঁর মূল দল ত্যাগ করেন, তবে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হয়ে যায়।

বিদ্রোহীদের যুক্তি: তাঁদের দাবি, তাঁরা মোট তৃণমূল সাংসদের দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) অংশ ভাঙতে সফল হয়েছেন (২৯ জনের মধ্যে ২০ জন), তাই দলত্যাগ বিরোধী আইন তাঁদের ওপর কার্যকর হবে না।

তৃণমূলের যুক্তি: সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় অনুযায়ী, শুধুমাত্র সংসদের ভেতরের দুই-তৃতীয়াংশ ভাঙলেই চলে না, মূল রাজনৈতিক সংগঠনটিরই দুই-তৃতীয়াংশ অংশ অন্য দলের সাথে মিশে যেতে হয়। যেহেতু মূল তৃণমূল দল এনসিপিআই-এর সাথে মেশেনি, তাই এই ২০ জনের সংসদ পদ অবিলম্বে খারিজ হওয়া উচিত।

৬. এই বিদ্রোহের পেছনে মূল কারণ কী বলে মনে করা হচ্ছে?

উত্তর: ২০২৬ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠনের পরেই মূলত এই সংকটের সূত্রপাত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (ED/CBI)-র ভয়, আর্থিক প্রলোভন এবং বিজেপির রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করেই এই সাংসদেরা নিজেদের আত্মসম্মান বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ শিবিরের দাবি, দলের অন্দরে তাঁদের ক্ষোভ বা অভিযোগ জানানোর মতো কোনও গণতান্ত্রিক জায়গা অবশিষ্ট ছিল না।

সংশোধন ও অভিযোগ: এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল, কপিরাইট সমস্যা বা আপত্তিকর তথ্য থাকলে অনুগ্রহ করে আমাদের Corrections Policy অনুসরণ করে জানান।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in

সর্বশেষ প্রকাশিত খবর

লোড হচ্ছে...
স্পিকারের কাছে ২০ জন দলত্যাগী সাংসদের পদ খারিজের দাবি নয়াদিল্লি: মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই তৃ...

🔥 Trending News

Loading...
Facebook WhatsApp X Copy