কলকাতা, সংবাদ একলব্য: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পটপরিবর্তন। সমস্ত জল্পনা এবং রাজনৈতিক সমীকরণকে সত্যি প্রমাণ করে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দীর্ঘ পনেরো বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে নবান্নের দখল নিতে চলেছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু এই ঐতিহাসিক জয়ের আবহে রাজ্য রাজনীতিতে এখন একটাই 'মিলিয়ন ডলার' প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন? নির্বাচনের আগে বিজেপি কোনো নির্দিষ্ট মুখ্যমন্ত্রীর মুখ (CM Face) সামনে রেখে লড়াই না করায়, জয় নিশ্চিত হতেই জল্পনা এখন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে রয়েছেন কারা?
মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এই মুহূর্তে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নাম রাজনৈতিক মহলে চর্চিত হচ্ছে। তালিকার একেবারে শীর্ষেই রয়েছেন রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গত পাঁচ বছর ধরে বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে শাসকদলের বিরুদ্ধে তিনিই ছিলেন গেরুয়া শিবিরের প্রধান মুখ ও সবচেয়ে আগ্রাসী নেতা। তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে তাঁর প্রত্যক্ষ লড়াই এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে নবান্নের কুর্সিতে বসার ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, সমানভাবে চর্চায় রয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, পরিশীলিত রাজনৈতিক আচরণ এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ তাঁকে এই দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে। এর পাশাপাশি, বাংলায় বিজেপির উত্থানের প্রথম দিকের কাণ্ডারী হিসেবে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নামও একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বড় চমকের সম্ভাবনা
তবে ভারতীয় জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অতীত ইতিহাস বলছে, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ এবং জে.পি. নাড্ডা বরাবরই চমক দিতে ভালোবাসেন। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান বা ছত্তিশগড়ের ক্ষেত্রেও এমন মুখকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল, যা রাজনৈতিক পণ্ডিতদেরও হিসাবের বাইরে ছিল। তাই বাংলার ক্ষেত্রেও পরিচিত হেভিওয়েট নেতাদের বাইরে গিয়ে একেবারে আনকোরা, অপ্রত্যাশিত কোনো মুখ, কোনো মহিলা নেত্রী কিংবা সমাজের বিশিষ্ট কোনো ব্যক্তিত্বকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
আপাতত জয়োল্লাসের পাশাপাশি দলের অন্দরে চলছে চূড়ান্ত হিসেবনিকেশ। এখন গোটা রাজ্যের নজর দিল্লির দিকে, সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকের পর শীর্ষ নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত কার হাতে বাংলার শাসনভার তুলে দেয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রতীক্ষা।
রাজ্য রাজনীতির সমস্ত গভীর বিশ্লেষণ ও লেটেস্ট আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ