কলকাতা, সংবাদ একলব্য: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর রাজ্য রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল স্মরণকালের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভূমিকম্প! জল্পনা এবং আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হতে চলেছে। বিরোধী শিবিরের বিপুল জয় এবং শাসকদলের ধরাশায়ী হওয়ার পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে অস্বীকার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর এই অনড় অবস্থানের জেরে গোটা রাজ্যে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট (Constitutional Crisis) তৈরি হয়েছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) একটি সম্ভাব্য চরম পদক্ষেপের খবরে কার্যত তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে।
সংবিধান অমান্যের অভিযোগ ও চরম সংকট
গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও সংবিধান অনুযায়ী, কোনো ক্ষমতাসীন সরকার যদি বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, তবে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে অবিলম্বে রাজ্যপালের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। এরপর রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া নতুন দলকে সরকার গড়ার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু সূত্রের খবর, জনগণের ম্যান্ডেট বিপক্ষে যাওয়া সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনে গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দিতে নারাজ। তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় নতুন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারছে না। এটি সরাসরি সংবিধানের অবমাননা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।
তৃণমূলকে 'নিষিদ্ধ' ঘোষণার পথে কমিশন?
পরিস্থিতি এমন চরম আকার ধারণ করেছে যে, আসরে নামতে বাধ্য হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নয়াদিল্লির উচ্চপদস্থ সূত্রের খবর, একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও গণতান্ত্রিক জনাদেশ (Public Mandate) ও সংবিধানকে অমান্য করার দায়ে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে কমিশন।
জানা যাচ্ছে, রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্ট (Representation of the People Act) এবং নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ক্ষমতাবলে তৃণমূল কংগ্রেসকে একটি 'নিষিদ্ধ দল' (Banned Party) হিসেবে ঘোষণা করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার কথা গভীরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দলের প্রতীক (Symbol) 'জোড়াফুল' সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত বা ফ্রিজ (Freeze) করে দেওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল।
রাজ্যপালের নজরদারি ও রাষ্ট্রপতি শাসনের জল্পনা
এদিকে, রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে রাজ্যপাল গোটা বিষয়টির ওপর কড়া নজর রাখছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে থেকে পদত্যাগ না করলে, রাজ্যপাল তাঁকে বরখাস্ত করে রাজ্যে ৩৫৬ ধারা বা রাষ্ট্রপতি শাসন (President's Rule) জারির সুপারিশ করতে পারেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এই খবর সামনে আসতেই গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রীর অপসারণ এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলে কড়া শাস্তির দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, শাসকদলের অন্দরেও এই পদক্ষেপ ঘিরে চরম বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
এই মুহূর্তের পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে। কমিশন সত্যিই তৃণমূল কংগ্রেসকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার মতো চরম ও ঐতিহাসিক পথে হাঁটে কি না, এবং রাজভবন থেকে পরবর্তী কী নির্দেশিকা জারি হয়, এখন গোটা দেশের নজর সেদিকেই।
রাজ্য রাজনীতি এবং সাংবিধানিক সংকটের সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ