নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মীদের সংবাদমাধ্যমে অংশগ্রহণ বা মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে মাত্র দু'দিন আগে জারি হওয়া কড়া নির্দেশিকায় বড়সড় রদবদল করল নবান্ন। বৃহস্পতিবার (২১ মে, ২০২৬) রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি বা মেমোরেন্ডাম জারি করা হয়েছে। এই নতুন বিজ্ঞপ্তির ফলে সবচেয়ে বড় স্বস্তি পেলেন রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত (Govt. Aided) স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীরা।
আগের নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছিল?
গত ১৯ মে রাজ্যের মুখ্যসচিবের দপ্তর থেকে এবং ২০ মে পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস (P&AR) দপ্তরের তরফ থেকে একটি কড়া নির্দেশিকা (Circular No. 139-CS/2026) জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো কর্মী সংবাদমাধ্যমে বা টক-শোতে অংশ নিতে পারবেন না, কোনো সংবাদপত্র বা সাময়িকী সম্পাদনা করতে পারবেন না এবং প্রকাশ্যে সরকারের কোনো নীতির সমালোচনা করতে পারবেন না। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় ছিল, ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছিল যে রাজ্য সরকারের সরাসরি কর্মীদের পাশাপাশি আংশিক বা সম্পূর্ণ সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সমস্ত 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের' (Educational Institutions) কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে বহু শিক্ষক—যাঁরা বিভিন্ন পত্রিকা সম্পাদনা, লেখালেখি বা সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা তীব্র উদ্বেগের মধ্যে পড়েন।
নতুন নির্দেশিকায় কী বদল হলো?
শিক্ষক মহলের সেই উদ্বেগ কাটাতে বৃহস্পতিবার (২১ মে) নবান্ন থেকে একটি নতুন স্পষ্টীকরণ বা মেমোরেন্ডাম জারি করা হয়। নতুন এই বিজ্ঞপ্তিতে আগের নিয়মের কড়াকড়ি অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত থাকার এই নিষেধাজ্ঞাগুলি এখন থেকে শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের সরাসরি কর্মী (Regular Establishments) এবং সরকারের অধীনস্থ বোর্ড, কর্পোরেশন বা আধা-সরকারি সংস্থাগুলির কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
শিক্ষকদের জন্য স্বস্তির খবর
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন এই বিজ্ঞপ্তিতে 'শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান' বা Educational Institutions-এর কথা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল বা কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ওপর সংবাদমাধ্যম বা লেখালেখি সংক্রান্ত এই কড়া নিয়ম আর খাটবে না।
প্রশাসনের এই দ্রুত স্পষ্টীকরণের ফলে শিক্ষা মহলে স্বস্তির হাওয়া। যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা পড়াশোনা করানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে লিটিল ম্যাগাজিন, রেফারিড জার্নাল সম্পাদনা, বা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাহিত্য চর্চার সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা এখন থেকে সার্ভিস রুল ভঙ্গের আইনি বাধা ছাড়াই নিশ্চিন্তে নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।
শিক্ষা, রাজ্য প্রশাসন ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে!
🌐 sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ