নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: রাজ্যে জাতিগত শংসাপত্র বা কাস্ট সার্টিফিকেট (Caste Certificate) নিয়ে অত্যন্ত বড়সড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ২০১১ সাল থেকে ইস্যু হওয়া রাজ্যের সমস্ত জাতিগত শংসাপত্র পুনরায় কঠোরভাবে যাচাই বা রি-ভেরিফিকেশন (Re-verification) করার নির্দেশ দেওয়া হল। এই মর্মে রাজ্য সরকারের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের (Backward Classes Welfare Department) সচিবের তরফ থেকে গত ১৪ মে, ২০২৬ তারিখে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসককে (District Magistrate) একটি কড়া নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
বিপুল সংখ্যক শংসাপত্র পুনর্যাচাইয়ের আওতায়
সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট পরিসংখ্যান দিয়ে জানানো হয়েছে যে, ২০১১ সাল থেকে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১.৬৯ কোটি কাস্ট সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১.০০ কোটি এসসি (SC), ২১ লক্ষ এসটি (ST) এবং ৪৮ লক্ষ ওবিসি (OBC) শংসাপত্র।
এর পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় কর্মসূচি 'দুয়ারে সরকার' (Duare Sarkar) শিবিরের ১০টি পর্যায়ের মাধ্যমে ইস্যু হওয়া প্রায় ৪৭.৮০ লক্ষ শংসাপত্রও এই পুনর্যাচাই প্রক্রিয়ার কড়া স্ক্যানারের আওতায় পড়বে। দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে ইস্যু হওয়া এই শংসাপত্রগুলির মধ্যে ৩২.৫১ লক্ষ এসসি, ৬.৬৫ লক্ষ এসটি এবং ৮.৬৪ লক্ষ ওবিসি সার্টিফিকেট রয়েছে।
হঠাৎ কেন এই পদক্ষেপ?
নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইস্যু করা কাস্ট সার্টিফিকেটগুলির সত্যতা এবং বৈধতা নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠছিল। এই শংসাপত্রগুলি আদৌ সঠিক কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই রাজ্য সরকার এই কড়া সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
কাদের ওপর এই যাচাইয়ের দায়িত্ব?
এই বিপুল সংখ্যক শংসাপত্র খতিয়ে দেখার জন্য মহকুমা শাসকদের (SDO) বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু প্রথম প্রজন্মের নয়, এর ভিত্তিতে ইস্যু হওয়া দ্বিতীয় প্রজন্মের (2nd generation) শংসাপত্রগুলিও যাচাই করা হবে।
ভুয়ো প্রমাণিত হলে কড়া আইনি ব্যবস্থা
যাচাই পর্বে যদি কোনো সার্টিফিকেট ভুয়ো বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে ইস্যু করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তবে ১৯৯৪ সালের এসসি/এসটি আইডেন্টিফিকেশন অ্যাক্ট এবং ১৯৯৫ সালের রুলস অনুযায়ী যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শংসাপত্রটি বাতিল করা হবে।
ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের শংসাপত্র বাতিল হতে পারে
নির্দেশিকায় আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিককালে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR exercises) সময় যাঁদের নাম রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের এবং তাঁদের ওপর নির্ভরশীলদের কাস্ট সার্টিফিকেটগুলিও বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী সেগুলিও বাতিল করা হবে।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন প্রকৃত সুবিধাভোগীরা আশ্বস্ত হবেন, তেমনই ভুয়ো শংসাপত্র দেখিয়ে সুবিধা আদায়কারীদের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজ্য সরকারের সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে
🌐 sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ