চরম ক্ষুব্ধ নেত্রী! মমতার ডাকা জরুরি বৈঠক এড়াতে 'অজুহাত' খুঁজছেন তৃণমূল বিধায়করা!
নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: রাজ্যে একের পর এক নজিরবিহীন ঘটনা এবং দলের হেভিওয়েট নেতাদের ওপর হামলার জেরে চরম অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা এবং শ্রীরামপুরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনরোষের মুখে পড়ার পর এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের সমস্ত বিধায়ক ও শীর্ষ নেতাদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তিনি। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেত্রীর এই বৈঠক এড়াতে রীতিমতো 'অজুহাত' খুঁজছেন তৃণমূল বিধায়কদের একাংশ।
বিধায়কদের মধ্যে কেন এই আতঙ্ক?
তৃণমূল সূত্রের খবর, রাজ্যের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নেতাদের ওপর সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের অপ্রত্যাশিত খারাপ ফল, বিভিন্ন জেলায় অন্তর্ঘাতের অভিযোগ এবং তার ঠিক পরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ নেতার নিগৃহীত হওয়ার ঘটনায় দলের নিচুতলার সাংগঠনিক ব্যর্থতা ও গোয়েন্দা খামতিকেই দায়ী করছেন শীর্ষ নেতৃত্ব।
নিহত কর্মীর বাড়িতে গিয়ে অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম-জুতো ছোড়া এবং তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা তৃণমূলের ইতিহাসে কার্যত নজিরবিহীন। বিধায়কদের প্রবল আশঙ্কা, দলের এই চূড়ান্ত ডামাডোলের মধ্যে আয়োজিত এই জরুরি বৈঠকে দলনেত্রীর চরম ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হবে তাঁদের।
বৈঠক এড়াতে নানা অজুহাত
দলের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে যে, নেত্রীর রোষানল থেকে বাঁচতে অনেক বিধায়কই বৈঠকে না যাওয়ার জন্য নানা কারণ দর্শাচ্ছেন।
- বেশ কয়েকজন বিধায়ক হঠাৎ করেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখাচ্ছেন।
- অনেকে আবার নিজের নিজের বিধানসভা এলাকায় পূর্বনির্ধারিত জরুরি কর্মসূচির অজুহাত খাড়া করে কালীঘাটের এই বৈঠক এড়িয়ে যেতে চাইছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের এমন চরম সংকটের সময়ে নেত্রীর মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছেন অনেক জনপ্রতিনিধিই। নির্বাচনের পর ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলের জেরে এমনিতেই দলে ভাঙন ও ইস্তফার হিড়িক শুরু হয়েছে। এর মাঝে শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলায় নিচুতলার নেতারা যে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও রীতিমতো ভীত, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া বার্তা
তবে এই অজুহাতে কাজ হবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে ইতিমধ্যেই কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, এই বৈঠকে উপস্থিত থাকা সবার জন্য কার্যত বাধ্যতামূলক। কোনো যুক্তিসঙ্গত ও অকাট্য কারণ ছাড়া কেউ অনুপস্থিত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অভিষেক ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার পর, দল যে এবার 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়ে এগোতে চাইছে, তা এই বৈঠকের তলব থেকেই স্পষ্ট। এখন দেখার, কালীঘাটের এই মেগা বৈঠকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিধায়কদের উদ্দেশ্যে ঠিক কী নির্দেশ দেন এবং দলের অভ্যন্তরীণ এই ফাটল তিনি কীভাবে সামাল দেন।
রাজ্য রাজনীতির সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট ও ইনসাইড স্টোরি সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে!
🌐 sangbadekalavya.inসংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ (Disclaimer): এই প্রতিবেদনটি প্রাপ্ত রাজনৈতিক সূত্র এবং বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় সমীকরণ সম্পর্কিত মন্তব্যগুলি রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণমাত্র।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন