নিজস্ব প্রতিবেদন, হাওড়া, সংবাদ একলব্য: বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দুপুর গড়াতেই রাজ্য রাজনীতিতে চরম নাটকীয় মোড়। ভোটের ফলাফল ও ট্রেন্ড ক্রমশ বিদায়ী সরকারের বিপক্ষে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই, রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তর নবান্ন (Nabanna) থেকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ফাইল ও নথি পাচারের আশঙ্কা করল 'সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ' (Sangrami Joutha Mancha)। আর এই আশঙ্কার ভিত্তিতেই নথিপত্র সুরক্ষিত রাখার দাবিতে পুলিশের কড়া বাধা পেরিয়ে নবান্নের গেটে নজিরবিহীন অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হলেন সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের এই সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
আশঙ্কা ও উত্তেজনার কারণ কী?
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অভিযোগ, নবান্নের অন্দরে রাজ্যের ১০ লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী এবং শিক্ষকদের চাকরি, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA), নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং স্কুল শিক্ষা সংক্রান্ত বহু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ফাইল সংরক্ষিত রয়েছে। দুপুরের পর থেকে নির্বাচনের ট্রেন্ডে শাসকদলের পিছিয়ে পড়ার হাওয়া প্রবল হতেই, কর্মচারী নেতৃত্বের কাছে খবর আসে যে শীর্ষ আধিকারিকদের একাংশ অত্যন্ত সন্তর্পণে এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও তথ্য সরিয়ে ফেলা বা পাচার করার চেষ্টা করছেন। দুর্নীতির প্রমাণ লোপাট করতেই এই মরিয়া চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তাঁরা।
পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে নবান্ন অভিযান
ফাইল পাচারের এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ্যে আসতেই কালবিলম্ব না করে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ৫০ জনের একটি প্রতিনিধি দল দ্রুততার সঙ্গে নবান্নের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। নবান্নের কাছাকাছি পৌঁছাতেই ব্রিজের নিচে পুলিশ তাঁদের পথ আটকায় এবং প্রবল বাধা দেয়। কিন্তু পুলিশি বাধা এবং ব্যারিকেড উপেক্ষা করেই প্রতিনিধি দলটি সোজা নবান্নের মূল গেটে পৌঁছে যায়।
সেখানে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন। তাঁদের একটাই জোরালো দাবি— কোনো অবস্থাতেই নবান্নের ভেতর থেকে কোনো ফাইল বা নথিপত্র বাইরে বের করতে দেওয়া যাবে না। প্রতিটি ব্যাগ এবং গাড়ি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করতে হবে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে নবান্নের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Forces) আধিকারিকরা হস্তক্ষেপ করেন। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের রাজ্য নেতৃত্ব চন্দন গরাই, সুবীর সাহা এবং চন্দন চ্যাটার্জি সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং তাঁদের আশঙ্কার কথা বিস্তারিতভাবে জানান।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকরা কর্মচারী নেতৃত্বকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, নবান্নের ভেতরে এবং বাইরে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। নবান্নের সকল আধিকারিক ও কর্মচারীদের আসা-যাওয়ার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে সবরকম কাগজপত্র ও ব্যাগ নিয়ম মেনে যাচাই করা হচ্ছে। কোনো অননুমোদিত ফাইল যাতে বাইরে না যায়, তা নিশ্চিত করতে বাহিনী তৎপর রয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই আশ্বাসের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, নির্বাচন শেষের এই সন্ধিক্ষণে নবান্নের মতো হাই-সিকিউরিটি জোনের সামনে সরকারি কর্মীদের এই অবস্থান বিক্ষোভ প্রমাণ করছে, বিদায়ী সরকারের প্রতি সাধারণ কর্মী মহলে অনাস্থা ও দুর্নীতির সন্দেহ ঠিক কতটা গভীর।
রাজ্য প্রশাসন এবং রাজনীতির সমস্ত ব্রেকিং খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ