কলকাতা, সংবাদ একলব্য: পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যের রাজ্যপাল আর এন রবি। আজ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই কথা জানালো লোকভবন। রাজ্যপালের দফতরের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৭ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এর অর্থ রাজ্যে সরকার আর নেই। ইস্তফা না দিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার মন্ত্রীসভা এখন 'প্রাক্তন'। তবে লোকভবনের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে 'মুখ্যমন্ত্রী' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'বরখস্ত' করা হয়নি বা নতুন সরকারের শপথ পর্যন্ত ‘তদারকি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেননি।
কি বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে?
বৃহস্পতিবার লোক ভবনের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারা (বি) উপধারা অনুসারে ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাজ্যপাল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছেন। সংবিধানের ধারা মেনে সেই নির্দেশ বলবৎও করা হয়েছে।
সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট:
সংবিধানের ১৭৪ (২) (বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজ্যপালকে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর উদ্ভূত বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রেক্ষাপট
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং বিজেপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথা মেনে পদত্যাগ করেননি। ভোটের ফলঘোষণার পরের দিন, মঙ্গলবার মমতা বলেছিলেন, ‘‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি! জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে?’’ তিনি লোকভবনে গিয়ে সরকারি ভাবে ইস্তফা দেননি। বরং বলেছিলেন, ‘‘ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক!’’ রাজ্যপাল অবশ্য ‘মুখ্যমন্ত্রী’ মমতাকে বরখাস্ত করেননি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল তাঁর বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিধানসভা ভেঙে দিয়ে পরবর্তী নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করলেন। আজ ৭ই মে ২০২৬ রাত ১২টা পর্যন্ত মেয়াদ ছিল বিদায়ী সরকারের তার আগেই লোকভবনের তরফে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হলো।
রাজ্যের ভার কার হাতে?
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, তা হলে এখন রাজ্যের ভার কার হাতে? অর্থাৎ, শনিবার শপথের আগে বৃহস্পতিবার রাত এবং শুক্রবার রাজ্যের শাসনভার কার হাতে থাকছে? এই নির্দিষ্ট কোনো জবাব নেই। কারণ এরকম পরিস্থিতি কখনও তৈরি হতে পারে, সেই আগাম আন্দাজ কারও কাছে ছিল না। প্রথা মেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করায় এই পরিস্থিতি। নয়তো পদত্যাগ করলেও নতুন সরকার শপথ গ্রহন না করা পর্যন্ত 'তদারকি মুখ্যমন্ত্রী'র দায়িত্ব বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকেই দিতেন রাজ্যপাল। বিধানসভা ভেঙে দেওয়ায় যেহেতু আর সরকার নেই এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল আপাতত সরাসরিই নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। অর্থাৎ, রাজ্যের ভার থাকবে তাঁর হাতেই। অনেকের মতে, চাইলে রাজ্যপাল দেড়দিনের জন্য রাজ্যে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করতে পারতেন। কিন্তু রাজ্যপাল তেমন মনে না করলে তিনি তা না-ও করতে পারেন।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ