'ভারতীয় ভূখণ্ড নেপালের!' বিতর্কিত মন্তব্যে তোলপাড়, অস্বস্তিতে পড়ে মুখ খুলল নেপাল সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদন: নেপালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ (Balen Shah)-এর একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত ও নেপালের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। নেপালের সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন যে, ভারতের বেশ কিছু নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর নেপালের অধিকার রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য শুধু যে বিতর্কের ঝড় তুলেছে তা-ই নয়, রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলেছে নেপালের বিরোধী দলগুলিকেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামতে হয়েছে খোদ নেপালের বিদেশমন্ত্রককে।
ঠিক কী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'অমর উজালা' এবং 'দ্য হিন্দু'-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রবিবার (৩১ মে ২০২৬) নেপালের সংসদে এক আইনপ্রণেতার প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ এই বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন। কালাপানি অঞ্চল (যা ভারত ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত এলাকা) সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আপনাদের হয়তো অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই জানতে পেরেছি যে শুধু ভারত নয়, নেপালও বিভিন্ন জায়গায় ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে।"
নেপালের কোনও রাষ্ট্রপ্রধানের মুখে এমন প্রকাশ্য মন্তব্য এই প্রথম। তাঁর এই মন্তব্যের পরই সংসদে তীব্র হইচই শুরু হয়।
বিতর্কের তীব্রতা ও বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া
বালেন শাহের এই মন্তব্যের পরই নেপালি কংগ্রেস এবং নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির মতো বিরোধী দলগুলি সংসদে তুমুল আপত্তি জানায়। তারা দাবি করে, প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট করতে হবে নেপাল ঠিক কোথায় ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করেছে এবং তাঁর এই মন্তব্য অবিলম্বে রেকর্ড থেকে মুছে ফেলারও দাবি তোলা হয়।
ভারত এই ধরনের ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক মন্তব্যকে চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের স্পষ্ট অবস্থান হলো, লিপুলেখ, কালাপানি এবং লিম্পিয়াধুরা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এ বিষয়ে কোনও রকম আপস করা হবে না।
অস্বস্তিতে নেপাল সরকার, বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতি
প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্য নেপালের রাজনীতিতে যথেষ্ট অস্বস্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভারতের মতো এক গুরুত্বপূর্ণ ও বন্ধুভাবাপন্ন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে, এমন আশঙ্কায় তড়িঘড়ি আসরে নেমেছে নেপালের বিদেশমন্ত্রক।
নেপালের বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে একটি স্পষ্টীকরণ (Clarification) জারি করে জানানো হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ মূলত 'নো-ম্যানস ল্যান্ড' (Dasgaja area) বা সীমান্ত পেরিয়ে জমি ব্যবহার ও দখলের কথা বোঝাতে চেয়েছিলেন, কোনো আনুষ্ঠানিক আঞ্চলিক দাবি তিনি করেননি। বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় ভারত ও নেপালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক এবং কূটনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে।
কে এই বালেন শাহ?
উল্লেখ্য, গত ২০২৬ সালের মার্চ মাসে নেপালের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে বালেন শাহের দল 'রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি' (RSP)। এর আগে তিনি কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মেয়র থাকাকালীনও তিনি তাঁর 'জাতীয়তাবাদী' অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন এবং ভারতের 'অখণ্ড ভারত' মানচিত্রের পালটা হিসেবে নিজের অফিসে 'গ্রেটার নেপাল'-এর মানচিত্র ঝুলিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারতের ভূখণ্ড নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য দুই দেশের কূটনীতিতে ফের একবার উত্তেজনার পারদ চড়াল।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে!
🌐 sangbadekalavya.inসংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ (Disclaimer): এই প্রতিবেদনটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবং নেপালের বিদেশমন্ত্রকের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত ও নেপাল সরকারের সরকারি নির্দেশিকাই চূড়ান্ত।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন