ইম্ফল, সংবাদ একলব্য: মণিপুরে ফের নতুন করে অশান্তির মেঘ ঘনিয়েছে। এবার ভারত-মায়ানমার সীমান্ত লাগোয়া মণিপুরের কামজং (Kamjong) জেলায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে এল। এই অতর্কিত হামলায় একাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন বলে খবর। এই ঘটনার পর সীমান্ত লাগোয়া ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোটা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
কীভাবে ঘটল এই ভয়াবহ হামলা?
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কামজং জেলার কাসোম খুল্লেন থানার অন্তর্গত নামলি, ওয়াংলি এবং চোরো গ্রামে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে তিনটে থেকে চারটে নাগাদ এই হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, মায়ানমার-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন 'কুকি ন্যাশনাল আর্মি-বার্মা' (KNA-B) এবং 'পিপলস ডিফেন্স ফোর্স' (PDF)-এর সদস্যরা এই পরিকল্পিত হামলার নেপথ্যে রয়েছে। জঙ্গিরা সীমানার ওপার থেকে অত্যাধুনিক ড্রোন, রকেট লঞ্চার এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। ড্রোনের মাধ্যমে আকাশ থেকে বিস্ফোরক ফেলা হয় এবং অন্তত ১৫ থেকে ১৮টি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। আচমকা এই হামলায় প্রাণ বাঁচাতে বহু শিশু, মহিলা ও বয়স্ক মানুষজন ঘরবাড়ি ছেড়ে কাছের জঙ্গলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। হামলায় অন্তত ছ'জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন এবং একজন বা দুজনের নিখোঁজ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
'বহিরাগত আগ্রাসন', তীব্র নিন্দা বিধায়কের
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন স্থানীয় বিধায়ক লেইশিও কেইশিং। তিনি এই হামলাকে কোনো অভ্যন্তরীণ জাতিগত সংঘর্ষ হিসেবে দেখতে নারাজ। উলটে তিনি একে সরাসরি ভারতের মাটিতে 'বহিরাগত আগ্রাসন' (External Aggression) বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, মায়ানমার থেকে আসা সশস্ত্র জঙ্গিরাই সুপরিকল্পিতভাবে সীমানা পেরিয়ে এই নাশকতা চালিয়েছে। ওই এলাকার আধিপত্য বিস্তারকারী তাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের শীর্ষ সংগঠনগুলিও এই হামলার কড়া নিন্দা করেছে। তাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালানোর পাশাপাশি ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে লুটপাট করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা
হামলার খবর পেয়েই কামজং জেলার সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অসম রাইফেলস এবং রাজ্য পুলিশের বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গোটা এলাকায় কড়া তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। নিখোঁজ গ্রামবাসীদের খোঁজে জঙ্গলে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ জাতিগত হিংসার মধ্যেই, আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে অত্যাধুনিক ড্রোন এবং রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে জঙ্গিদের এই হামলা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ভারত-মায়ানমার সীমান্তের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় কীভাবে এই ধরনের অনুপ্রবেশ ও নাশকতা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
জাতীয় স্তরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর এবং ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ