অমিত বনিক, মালবাজার: সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মালবাজার শহরে অবৈধভাবে বালি পরিবহণের অভিযোগে একটি ট্রাক্টর আটকে বিক্ষোভ দেখাল মালবাজার ট্রাক মালিক সংগঠনের সদস্যরা। মঙ্গলবার দিনের বেলায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মালবাজার থানার পুলিশ।
সন্দেহজনক ট্রাক্টর আটকে বিক্ষোভ
স্থানীয় ও সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার শহরের প্রধান রাস্তা দিয়ে একটি বালি বোঝাই ট্রাক্টর যেতে দেখে সন্দেহ হয় ট্রাক মালিক সংগঠনের সদস্যদের। বর্তমানে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী নদী থেকে বালি ও পাথর উত্তোলনের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এই কড়া পরিস্থিতির মধ্যে কীভাবে ওই ট্রাক্টরটি বালি বহন করছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেটিকে আটকে দেন সংগঠনের সদস্যরা এবং অবিলম্বে পুলিশে খবর দেন।
সংগঠনের কড়া হুঁশিয়ারি
ট্রাক মালিক সংগঠনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু চক্র অবৈধভাবে এই বালি ও পাথর পরিবহণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, বালি বা পাথর পরিবহণের ক্ষেত্রে বৈধ রয়্যালটি এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। নিয়ম না মেনে এই ধরনের অবৈধ পরিবহণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা।
চালকের সাফাই ও পুলিশের তদন্ত
অন্যদিকে, আটক হওয়া ট্রাক্টরটির চালক দাবি করেন, বালিগুলি পাচারের উদ্দেশ্যে নয়, বরং একটি বাড়ির নির্মাণকাজের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা বালি উত্তোলন সংক্রান্ত নিয়ম সম্পর্কে তাঁদের কাছে কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না বলেও সাফাই দেন তিনি।
মালবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আটক ট্রাক্টরটির সমস্ত বৈধ নথিপত্র খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ওই বালি ঠিক কোথা থেকে তোলা হয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো অসাধু চক্র রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ডুয়ার্স ও উত্তরবঙ্গের সমস্ত খবরের লেটেস্ট আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
সাংবাদিক - অমিত বনিক
জন্মসূত্রে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা অমিত বনিক স্নাতক সম্পন্ন করার পর ২০১৫ সাল থেকে পেশাদার সাংবাদিকতার জগতে পা রাখেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি 'সংবাদ একলব্য'-এর সাথে যুক্ত রয়েছেন। জলপাইগুড়ি শহর এবং এর আশেপাশের এলাকার তৃণমূল স্তরের খবর থেকে শুরু করে সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বস্তুনিষ্ঠতার সাথে তুলে ধরাই তাঁর প্রধান কাজ।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ