নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: রাজ্যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বি.এড (B.Ed) প্রশিক্ষণ শেষ করতে না পারায় হাজার হাজার শিক্ষকের ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বন্ধ থাকা ইনক্রিমেন্ট বা 'লস্ট ইনক্রিমেন্ট' (Lost Increment) পুনরায় চালু করার জন্য জেনারেল নোটিফিকেশন প্রকাশের দাবিতে এবার সরব হলো শিক্ষক সংগঠন 'অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন' (APGTWA)।
সোমবার সংগঠনের পক্ষ থেকে বিকাশ ভবনে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা কমিশনার (Commissioner of School Education) এবং স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের (Additional Chief Secretary) কাছে এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত দাবিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। ডেপুটেশন প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সম্পাদক চন্দন গরাই, সোনালি মজুমদার, পিন্টু মন্ডল, শেখ ইকবাল, চন্দন দাস সহ বহু ভুক্তভোগী শিক্ষক-শিক্ষিকা। তারা ডেপুটি ডিরেক্টরের সাথে বিষয়টি নিয়ে বিশদে আলোচনা করেন। দপ্তরের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে মোট কতজন শিক্ষকের ইনক্রিমেন্ট লস হয়েছে, তার একটি তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।
কেন বন্ধ হয়েছিল ইনক্রিমেন্ট?
বর্তমানে রাজ্যের কয়েক হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার বিশেষ কিছু প্রশাসনিক সমস্যা ও যথাযথ কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বি.এড প্রশিক্ষণ না থাকায় ইনক্রিমেন্ট স্টপ হয়ে যায়। এর ফলে ২০২৫ সাল পর্যন্ত লস্ট ইনক্রিমেন্টের কারণে এই সকল শিক্ষকরা অনেক কম বেতন পাচ্ছেন এবং বড় ধরনের পেশাগত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। সংগঠনের অভিযোগ, বিগত রাজ্য সরকার ও স্কুল শিক্ষা দপ্তরকে বিষয়টি বারবার জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
যে কারণগুলিতে লস্ট ইনক্রিমেন্ট সমস্যা তৈরি হয়েছে:
- ১. রাজ্যে পর্যাপ্ত বি.এড কলেজ এবং ডেপুটেশন শিক্ষকদের জন্য পর্যাপ্ত শূন্যপদ না থাকায়, স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এবং মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন দ্বারা নিযুক্ত অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকরা ৫ বছরের মধ্যে বি.এড ডিগ্রি লাভে অক্ষম হন।
- ২. বেশিরভাগ স্কুলে দুইয়ের অধিক অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক থাকলেও, নিয়ম অনুযায়ী একটি শিক্ষাবর্ষে সর্বাধিক দুজন শিক্ষককেই বি.এড কলেজে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হতো।
- ৩. ২০১৫ সাল থেকে NCTE-এর নির্দেশ অনুসারে, বি.এড কোর্সের মেয়াদ ১ বছর থেকে বাড়িয়ে ২ বছর করায় পরিকাঠামোগত অভাবে কলেজে আসন সংখ্যা কমে অর্ধেক হয়ে যায়।
- ৪. উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক বিভাগের অ্যাডিশনাল পোস্টে নিযুক্ত শিক্ষকদের ৩ বছর চাকরি পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বি.এড করার অনুমতি দেওয়া হতো না।
- ৫. ফিলোসফি, এডুকেশন, নিউট্রিশন, কমার্স সহ বিভিন্ন সাবজেক্টের বেশিরভাগ কলেজে 'মেথড সাবজেক্ট' না থাকায় শিক্ষকরা সুযোগ পাননি।
- ৬. স্নাতক বা স্নাতকোত্তর স্তরে ৫০% নম্বর না থাকায় বেশ কয়েক হাজার শিক্ষক বি.এড ডিগ্রির সুযোগ পাননি।
- ৭. ২০১৭-২০১৯ সালে শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশে ৫০% নম্বর না থাকা কিছু শিক্ষক NIOS-এর মাধ্যমে D.El.Ed ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু বেশিরভাগ জেলায় D.El.Ed-এর ভিত্তিতে ডিআই (DI) অফিস উচ্চ প্রাথমিক বিভাগের কিছু শিক্ষক ছাড়া বাকিদের ইনক্রিমেন্ট চালু করতে অস্বীকার করে। ফলে অনেক শিক্ষককে ফের বি.এড ডিগ্রিতে ভর্তি হতে হয় এবং একাধিক ইনক্রিমেন্ট লস হয়।
শিক্ষকদের মতে, বর্তমান সরকার যদি লস্ট ইনক্রিমেন্ট রিস্টোরেশন সংক্রান্ত একটি সাধারণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, তবে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার চিরতরে সমাধান হবে এবং বহু শিক্ষক উপকৃত হবেন। এ বিষয়ে APGTWA-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন গরাই বলেন, "আসন্ন জুলাই মাসে রেগুলার ইনক্রিমেন্ট-এর সাথে এই লস্ট ইনক্রিমেন্ট আপডেট করে দেওয়ার জন্য অবিলম্বে নোটিফিকেশন প্রকাশ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করুক স্কুল শিক্ষা দপ্তর।"
শিক্ষক ও শিক্ষা দপ্তরের সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে!
🌐 sangbadekalavya.inসংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ (Disclaimer): 'সংবাদ একলব্য' সর্বদা সঠিক এবং বস্তুনিষ্ঠ খবর পরিবেশন করতে বদ্ধপরিকর। প্রকাশিত খবরের তথ্যসূত্র যাচাই করা হলেও, যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা সরকারি বিজ্ঞপ্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা নির্দেশিকা চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ