জলপাইগুড়ি, সংবাদ একলব্য: জলপাইগুড়িতে ভোটের ফলপ্রকাশের পরই উলটপুরাণ। জয়ের আনন্দে মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার পথে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হলেন বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী ও সমর্থক। মঙ্গলবার সকালে জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা আসনের রংধামালি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগের তির সরাসরি পরাজিত তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কৃষ্ণ দাস এবং তাঁর দলবলের দিকে। অভিযোগ, তীর-ধনুক এবং তরোয়ালের মতো ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিজেপি কর্মীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচজন বিজেপি কর্মীকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন অনিল রায়, কিছু দাস, দীপক রায়, গজেন রায় এবং সুধীন রায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। উত্তেজনা এড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাসের বসতভিটা ঘিরে ফেলা হয়।
তীব্র প্রতিবাদে সরব বিজেপি নেতৃত্ব
এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান নেতারা। স্থানীয় এক বিজেপি নেতার কথায়, আক্রমণকারীদের মধ্যে মনুষ্যত্ব বলে কিছু নেই, তারা উগ্রপন্থীদের মতো আচরণ করেছে। অন্যদিকে, কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে আসেন বিজেপি নেত্রী পাঞ্চালী দেব শিকদার এবং কল্লোল ঘোষ। তাঁরা জানান, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণভাবে খুনের চেষ্টা। ধারালো অস্ত্রের কোপে কারও গাল ফেটেছে, কারও বুকে আঘাত লেগেছে, এমনকি দু'রাউন্ড গুলিও চালানো হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ সুপারকে ইতিমধ্যেই মেইল করে অভিযোগ জানানো হয়েছে এবং অবিলম্বে অভিযুক্ত তৃণমূল প্রার্থীকে গ্রেফতারের দাবি তোলা হয়েছে।
জলপাইগুড়ি ছাড়ার হুঁশিয়ারি বাপী গোস্বামীর
বিজেপি কর্মীদের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলার পর কড়া অবস্থান নিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপী গোস্বামী, জেলা সভাপতি শ্যামল রায় এবং সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত কুমার রায় একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে বাপী গোস্বামী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাস এবং তাঁর সঙ্গীদের অবিলম্বে জলপাইগুড়ির মানুষের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং জলপাইগুড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মানুষের জনরোষ যদি তাদের ওপর আছড়ে পড়ে, তবে তার দায় ভারতীয় জনতা পার্টি নেবে না। বাপী গোস্বামীর মতে, বিজেপি সুস্থ ও সভ্য রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, বিরোধী দলগুলিকে তারা কখনোই রাজনীতি করতে বাধা দেয়নি, কিন্তু এই ধরনের অসভ্য ও বর্বর আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
অভিযোগ অস্বীকার তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাসের
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাস। তিনি দাবি করেন, বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার পর তাঁর সাথে এখন আর কোনো লোকজনই নেই, তাই তাঁর পক্ষে হামলা চালানোর প্রশ্নই ওঠে না। বরং তাঁর বাড়িতে আক্রমণের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এগুলি কোনো সভ্য রাজনীতির পরিচয় নয়। হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতি উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, সংখ্যালঘু এলাকাতেও বিজেপি বিপুল লিড পেয়েছে। মানুষের আশীর্বাদ ছাড়া ইভিএম বা পেশিশক্তির জোরে রাজনীতি হয় না বলে দাবি করে কৃষ্ণ দাস জানান, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে এবং বাড়ি ভাঙচুর বা ক্লাব দখলের মতো রাজনীতি তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থন করে না। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জলপাইগুড়ি এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট এবং রাজনীতির খবর সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ