সরকার বদলের পর ভেস্তে গেল দিনহাটা পৌরসভার প্রথম বোর্ড মিটিং!
সমীর হোসেন, দিনহাটা, সংবাদ একলব্য: সরকার বদলের পর শুক্রবার ছিল দিনহাটা পুরসভার প্রথম বোর্ড মিটিং। পুরসভার ১৬ টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন ১১ জন। সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকার পরেও শেষমেশ ভেস্তে গেল দিনহাটা পুরসভার এই গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড মিটিং। এর ফলে পুরসভার উন্নয়নের পরিকল্পনা যে থমকে গেল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বোর্ড মিটিং ভেস্তে যাওয়া নিয়ে কাউন্সিলরদের একাংশ এবং চেয়ারপার্সন অপর্ণা দে নন্দীর মধ্যে শুরু হয় দায় ঠেলাঠেলি, আর তা নিয়েই পুরসভায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল শুক্রবার সকালে।
কারা উপস্থিত ছিলেন?
উল্লেখ্য, গত ৪ মে ফলাফল প্রকাশের বেশ কয়েকদিন পুরসভায় দেখা যায়নি চেয়ারপার্সন অপর্ণা দে নন্দী ও ভাইস চেয়ারম্যান সাবীর সাহা চৌধুরীকে। সেই সাথে কোনো কাউন্সিলরকেও দেখা যায়নি পুরসভায়। কয়েকদিন যেতেই ফের পুরসভায় দেখা মেলে চেয়ারপার্সন অপর্ণা দে নন্দীর, যদিও ভাইস চেয়ারম্যান এখনও পুরসভায় নেই। গত কয়েকদিন পুরসভাতে দেখা মিলত মাত্র দুই কাউন্সিলরের। এর ফলে পুরসভার ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে যেমন আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল, তেমনি কাউন্সিলররা না এলে পুরবাসিন্দাদের উন্নয়নমূলক পরিষেবাও যে বিঘ্নিত হবে সে বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
শুক্রবার পুরসভার তরফে বোর্ড মিটিংয়ে ডাকা হলে সেখানে চেয়ারপার্সন অপর্ণা দে নন্দী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুলতা দে ঘোষ, ৩ নং ওয়ার্ডের জয়শ্রী সরকার, ৫ নং ওয়ার্ডের বিশ্বজিৎ সাহা, ৬ নং ওয়ার্ডের নমিতা বর্মন, ৭ নং ওয়ার্ডের মিঠু দাস, ৮ নং ওয়ার্ডের বাবলু সাহা, ৯ নং ওয়ার্ডের পার্থ নাথ সরকার, ১২ নং ওয়ার্ডের শম্ভু অধিকারী, ১৪ নং ওয়ার্ডের রমেন বর্মন এবং ১৬ নং ওয়ার্ডের জাকারিয়া হোসেন।
যদিও খাতায়-কলমে দেখা যায় ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার সাহার নামও, কিন্তু তাঁকে এদিন বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। আর তিনি না থাকার পরেও রেজোলিউশন খাতায় কী করে সই হয়ে গেল, তা নিয়েই শুরু হয় বচসা। কাউন্সিলরদের একাংশ চেয়ারপার্সনের কাছে জানতে চান, কী করে একজন কাউন্সিলর না এসেও তাঁর সই হয়ে যায়?
কী বলছেন কাউন্সিলররা?
পুরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পার্থনাথ সরকারের কথায়, "পুরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চঞ্চল সাহা না এসেও তাঁর সই কী করে রেজোলিউশন খাতায় হলো, সেটাই আমরা জানতে চাই। কিন্তু চেয়ারপার্সন জানান তাঁর সই বাড়ি থেকে করিয়ে আনা হয়েছে।" পাশাপাশি তিনি আরও অভিযোগ করেন, এদিন সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলর থাকলেও বোর্ড মিটিংয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি, যা পুরসভার ইতিহাসে বিরলতম ঘটনা।
অপরদিকে ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নমিতা বর্মনের কথায়, "না এসেই সই হয়ে যাচ্ছে, তার উত্তর জানতে চাওয়া যাবে না!" তাঁদের অভিযোগ, এদিন একপ্রকার সাদা খাতায় তাঁদের সই নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে তাঁদের মনে সংশয় রয়েছে। তিনি জানান, বোর্ড মিটিংয়ের জন্য ডাকা হলেও আদতে কোনো আলোচনাই হয়নি।
কী জানালেন চেয়ারপার্সন অপর্ণা দে নন্দী?
যদিও চেয়ারপার্সন অপর্ণা দে নন্দী সই প্রসঙ্গে বলেন, "পুরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চঞ্চল সাহা এসে রেজোলিউশনে সই করে গিয়েছেন। তিনি কোনো কারণে এদিন মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে পারেননি।" পাশাপাশি সাদা খাতায় সই প্রসঙ্গে তিনি জানান, কারোরই সই সাদা খাতায় হয়নি। রেজোলিউশন খাতার ওপরে আলোচনার বিষয়বস্তু লেখার পরেই কাউন্সিলরদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল।
এদিন বোর্ড মিটিং ভেস্তে যাওয়ার দায় তিনি গুটি কয়েক কাউন্সিলরের ওপরই দেন। তাঁর কথায়, সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও এদিন কয়েকজন কাউন্সিলরের কারণে সেই আলোচনা ভেস্তে যায়। স্বাভাবিকভাবেই অচলাবস্থা কাটিয়ে যখন পুরসভা উন্নয়নের পরিকল্পনা করতে এগিয়ে আসছে, তখন নিজেদের মধ্যে থাকা দ্বন্দ্ব কোথাও গিয়ে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত করছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
দিনহাটা, কোচবিহার সহ উত্তরবঙ্গের সমস্ত স্থানীয় ব্রেকিং আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে
🌐 sangbadekalavya.inসংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ (Disclaimer): 'সংবাদ একলব্য' সর্বদা সঠিক এবং বস্তুনিষ্ঠ খবর পরিবেশন করতে বদ্ধপরিকর। এই প্রতিবেদনটি দিনহাটা পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত জনপ্রতিনিধিদের নিজস্ব বিবৃতি ও অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক মতানৈক্যের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব কোনো মতামত নেই।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন