নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতের ডিজিটাল রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে চর্চিত নাম 'ককরোচ জনতা পার্টি' (Cockroach Janta Party - CJP) বা আরশোলা জনতা পার্টি। এটি কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি ব্যঙ্গাত্মক (Satirical) রাজনৈতিক মঞ্চ। আত্মপ্রকাশের মাত্র চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ারের সংখ্যার নিরিখে দেশের শাসক দল বিজেপি (BJP)-কেও পিছনে ফেলে দিয়ে এক নয়া ইতিহাস তৈরি করেছে এই 'আরশোলা জনতা পার্টি'。
কীভাবে জন্ম এই ব্যঙ্গাত্মক দলের?
গত ১৫ মে, ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানির সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার যুবক এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের একাংশকে 'আরশোলা' (Cockroach) বা 'পরজীবী'র সঙ্গে তুলনা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও পরবর্তীতে তিনি জানান যে তাঁর মন্তব্যটি বিকৃত করা হয়েছে এবং প্রেক্ষাপটের বাইরে গিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কিন্তু ততক্ষণে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এই ক্ষোভ থেকেই ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ১৬ মে জন্ম নেয় 'ককরোচ জনতা পার্টি'। বেকারত্ব, হতাশা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের প্রতি তরুণদের (বিশেষ করে Gen Z) অনাস্থাকে ব্যঙ্গের মাধ্যমে তুলে ধরাই দলটির মূল লক্ষ্য।
কে এই দলের প্রতিষ্ঠাতা?
এই অভিনব দলের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ৩০ বছর বয়সী তরুণ অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke)। তিনি নিজেকে এই দলের 'ফাউন্ডিং প্রেসিডেন্ট' হিসেবে দাবি করেছেন। সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করার পর তিনি বর্তমানে আমেরিকার বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে 'পাবলিক রিলেশনস' নিয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করছেন। উল্লেখ্য, ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির (AAP) সোশ্যাল মিডিয়া টিমের একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছিলেন।
নিজেদের যুবদের রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে দাবি করে এই দল। মজার ছলে এদের স্লোগান দেওয়া হয়েছে— "অলস এবং বেকারদের কণ্ঠস্বর" (Voice of the Lazy & Unemployed)। দলের ম্যানিফেস্টোতে বলা হয়েছে, এই দল "ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং অলস" (Secular, Socialist, Democratic, and Lazy)।
বিপুল জনপ্রিয়তা ও রেকর্ড
- ইনস্টাগ্রামে বিজেপিকে টেক্কা: ২১ মে, ২০২৬-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে CJP-এর ফলোয়ার সংখ্যা ১৩ মিলিয়ান পার করেছে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজের ফলোয়ার সংখ্যা ৮.৭ মিলিয়ন।
- সদস্য সংখ্যা: ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক তরুণ-তরুণী এই দলে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন।
- রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদের মতো মূলধারার রাজনীতিকরাও অনলাইনে এই দলের বিভিন্ন পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ইন্টারনেট জোকস, মিম (Meme) এবং ডিজিটাল প্রতিবাদের নিখুঁত মিশেলে 'ককরোচ জনতা পার্টি' এখন যুব সমাজের হতাশা প্রকাশের সবচেয়ে বড় মঞ্চ হয়ে উঠেছে।
দেশ, রাজ্য ও রাজনীতির সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে
🌐 sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ