নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতের একসময়ের সবচেয়ে সফল এডটেক (EdTech) কোম্পানি 'বাইজুস' (Byju's)-এর প্রতিষ্ঠাতা বাইজু রবীন্দ্রনের আইনি জটিলতা কমার কোনও নামই নেই। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে চলমান আর্থিক সঙ্কটের মধ্যেই এবার সিঙ্গাপুরের একটি আদালত তাঁকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ৬ মাসের জেলের সাজা শুনিয়েছে।
নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ: সিঙ্গাপুরের আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী, বাইজু রবীন্দ্রন ২০২৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে নিজের সম্পত্তি সংক্রান্ত একাধিক আদালতের নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করেছেন। আদালতের এই নির্দেশগুলির অবহেলা করার কারণেই তাঁকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং ৬ মাসের জেলের সাজা শোনানো হয়েছে। জেলের পাশাপাশি রবীন্দ্রনের উপর বড় অঙ্কের জরিমানাও ধার্য করেছে আদালত। আইনি খরচ বাবদ তাঁকে ৯০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ৭০ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার) মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
সম্পত্তির হিসাব তলব: আদালত শুধুমাত্র সাজা শুনিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, রবীন্দ্রনকে তাঁর কিছু সম্পত্তির হিসাবও দিতে বলেছে। তাঁকে এমন আইনি নথি জমা দিতে হবে যা প্রমাণ করে যে তিনিই 'বিএআর ইনভেস্টকো পিটিই' (Beeaar Investco Pte) নামক কর্পোরেট সংস্থার আসল মালিক। এই আইনি লড়াইয়ে কাতার হোল্ডিংস-এর হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে 'ড্রু অ্যান্ড নেপিয়ার', আর বাইজু ইনভেস্টমেন্টস-এর পক্ষে রয়েছে 'ফারভেন্ট চেম্বার্স'।
চরম আর্থিক ও আইনি সঙ্কট: রবীন্দ্রনের জন্য এই সাজা এমন এক সময়ে এল যখন সারা বিশ্বের একাধিক বিদেশি বিনিয়োগকারী তাঁর কাছে নিজেদের ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। আমেরিকাতেও ১.২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ঋণ ডুবে যাওয়ার পর তা উদ্ধারের জন্য আইনি লড়াই চালাচ্ছেন ঋণদাতারা। সিঙ্গাপুরেও কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির একটি সহযোগী সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চালাচ্ছে।
রবীন্দ্রনের প্রতিক্রিয়া: সিঙ্গাপুর আদালতের এই রায়ের পর বাইজু রবীন্দ্রন তাঁর হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জিএলএএস ট্রাস্ট (GLAS Trust) এবং কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির মতো মূল ঋণদাতাদের সাথে তাঁর চুক্তির আলোচনা একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং সামান্য কিছু বিষয়ই সমাধান করা বাকি। তিনি আরও দাবি করেন, আলোচনায় যুক্ত সমস্ত পক্ষই মেনে নিয়েছে যে তাঁর বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠাতাদের পক্ষ থেকে কোনো বেআইনি বা ভুল কাজ করা হয়নি। নিজের স্বপক্ষে রবীন্দ্রন বলেন, তিনি সংঘাতের বদলে সমাধানকেই সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং সেই চুক্তির কথা মাথায় রেখেই তিনি সাম্প্রতিক আইনি প্রক্রিয়াগুলোর সক্রিয়ভাবে বিরোধিতা করেননি।
একসময় যে কোম্পানি রবীন্দ্রনকে বিলিয়নিয়ার করে তুলেছিল এবং ভারতীয় স্টার্টআপগুলির কাছে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, আজ সেই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতার এমন পরিণতি ব্যবসায়িক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রবীন্দ্রন এই মুহূর্তে সিঙ্গাপুরে রয়েছেন কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ব্যবসা, বাণিজ্য এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক খবরের সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে!
🌐 sangbadekalavya.inসংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ (Disclaimer): 'সংবাদ একলব্য' সর্বদা সঠিক এবং বস্তুনিষ্ঠ খবর পরিবেশন করতে বদ্ধপরিকর। আন্তর্জাতিক আদালতের রায় এবং আইনি পদক্ষেপ সংক্রান্ত এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। আইনি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের রায়ই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ