সুরশ্রী ব্যানার্জী, কলকাতা, সংবাদ একলব্য: নতুন বছর মানেই নতুন খাতা, নতুন জামা আর বাঙালির কাছে নতুন বইয়ের গন্ধ। ১লা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে কলকাতার বইপাড়া অর্থাৎ কলেজ স্ট্রিটে যেন এক অকাল উৎসবের মেজাজ। পয়লা বৈশাখের সকাল থেকেই প্রকাশক, লেখক-লেখিকা এবং অসংখ্য পুস্তকপ্রেমী ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে রীতিমতো জমজমাট হয়ে ওঠে গোটা কলেজ স্ট্রিট চত্বর, যা তিলোত্তমাবাসীর নজর কেড়েছে।
সকালের হালখাতা ও মিষ্টিমুখ
ঐতিহ্যবাহী রীতি মেনে সকাল থেকেই বইপাড়ায় শুরু হয়ে যায় নববর্ষের উদযাপন। ঘড়ির কাঁটা ধরে ঠিক দশটার মধ্যেই প্রায় প্রতিটি বইয়ের দোকানে সিদ্ধিদাতা গণেশ ও মা লক্ষ্মীর পুজো শেষ হয়। পুজো সম্পন্ন হতেই পুরোদমে শুরু হয়ে যায় বই কেনাবেচার পর্ব। নতুন বইয়ের গন্ধের পাশাপাশি ক্রেতাদের আপ্যায়নে কোনো ত্রুটি রাখেননি প্রকাশকরা। বই কেনার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি ক্রেতার হাতে ঠান্ডা পানীয় ও মিষ্টির প্যাকেট তুলে দিয়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায় সর্বত্র।
লেখক-লেখিকাদের চাঁদের হাট
বেলা গড়াতেই বইপাড়ায় বাড়ে উন্মাদনা। দুপুর একটা থেকে প্রকাশকদের সুসজ্জিত বিপণিগুলিতে শুরু হয় লেখক-লেখিকাদের আনাগোনা। নতুন ধুতি, পাঞ্জাবি ও পাজামায় সজ্জিত শৌখিন লেখকদের পাশাপাশি বাহারি শাড়ি, কুর্তি এবং জিনস পরিহিত লেখিকাদের উপস্থিতিতে বইপাড়ার জৌলুস যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
প্রকাশনা সংস্থাগুলোতে উপচে পড়া ভিড়
এদিন কলেজ স্ট্রিটের নামিদামি প্রায় সব প্রকাশনা সংস্থাতেই ছিল উৎসবের আমেজ। দেজ পাবলিশিং, পত্রভারতী, দেবসাহিত্য কুটির, আজকাল, কথা ও কাহিনী, তুহিনা প্রকাশনী, একুশ শতক, ভোলানাথ প্রকাশনী, সেন ব্রাদার্স, বি. এন. কুন্ডু গ্র্যান্ডসন্স, দীপ প্রকাশন, ভগবতী পাবলিকেশন, নিউ ভারত সাহিত্য কুটির, বসাক বুক স্টোর, নান্দনিক, করুণা প্রকাশনী-র মতো সুপরিচিত পুস্তক বিপণিগুলিতে ক্রেতা ও পাঠকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এই ভিড়ের মধ্যেই একাধিক নতুন গ্রন্থ প্রকাশের অনুষ্ঠান বইপাড়ার মহোৎসবে আলাদা মাত্রা যোগ করে।
আশায় বুক বাঁধছে প্রকাশনা শিল্প
দীর্ঘদিন পর বইপাড়ায় এমন প্রানবন্ত পরিবেশ দেখে স্বভাবতই খুশি প্রকাশক থেকে শুরু করে পাঠকরা। প্রকাশকদের মুখে চওড়া হাসি এবং বই বিক্রির এই রমরমা অবস্থা দেখে মুদ্রণ ও বাঁধাই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মনেও নতুন করে সাহস ও আশা সঞ্চারিত হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার লেখকদের মধ্যেও আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। পাঠক-পাঠিকারাও নিজেদের প্রিয় লেখকদের কাছে পেয়ে বাংলা সাহিত্য নিয়ে মেতে ওঠেন আলোচনায়।
সব মিলিয়ে, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিনে কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়া প্রমাণ করে দিল, ডিজিটাল যুগেও বাঙালির বইপ্রেম এতটুকুও মলিন হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এমন একটি জমজমাট 'বই-সাঁজ' পেয়ে লেখক, প্রকাশক, ক্রেতা ও বিক্রেতা—সকলেই দারুণ উচ্ছ্বসিত।
বাংলা সাহিত্য, প্রকাশনা জগৎ এবং লেটেস্ট খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
সাংবাদিক - সুরশ্রী ব্যানার্জী
২০০০ সালে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করার পর তিনি সুরেন্দ্রনাথ কলেজ এবং কিপ্পা (Kippa) থেকে ডিজিটাল মিডিয়া জার্নালিজমে পড়াশোনা করেন। ২০০৮ সালে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় মূলত সাহিত্য ও রাজনীতি বিষয়ে দক্ষতার সাথে কাজ করে আসছেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি 'সংবাদ একলব্য'-এর সাথে যুক্ত হয়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ