ভবানীপুর, সংবাদ একলব্য: বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ ঊর্ধ্বমুখী। এরই মধ্যে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুরের চড়কডাঙা এলাকায় তৈরি হলো চরম উত্তেজনা। দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত সভা থেকে মেজাজ হারিয়ে বেরিয়ে গেলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঠিক কি ঘটেছিল?
ভবানীপুর কেন্দ্রে শনিবার তৃণমূলনেত্রীর রোড শো ও বিরোধী দলনেতা জনসংযোগ চলাকালীন মুখোমুখি হয়ে যায় দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর কর্মীসমর্থকরা। শুরু হয় স্লোগান যুদ্ধ। একদিকে জয় বাংলা, অন্যদিকে জয় শ্রীরাম। আর এর পরই শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা। জনসংযোগ থামিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনার কয়েক ঘন্টা পর এমন কাণ্ড ঘটাল যে, জনসভা চলাকালীন মাঝপথে ভাষণ থামিয়ে মঞ্চ ছাড়েন তৃণমূল সুপ্রিমো। চক্রবেড়িয়া রোডে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী সভা শুরু করেন। এই সভার ঠিক অদূরেই বিজেপি-র তরফে তারস্বরে মাইকিং শুরু করা হয়। আর এই বিশৃঙ্খলার জেরেই সভার মাঝপথেই বক্তৃতা থামিয়ে মঞ্চ ছাড়তে বাধ্য হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনই অভিযোগ এনেছে তৃণমূল।
তোপ দেগে মঞ্চ ছাড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তোপ দেগে বলেন, '' ওরা কেন করবে এটা? নির্বাচনের কতগুলো নিয়ম আছে। এমনটা হলে ওরাও যেদিন মিটিং করবে তোমরা তবে পাল্টা মাইক লাগিয়ে দেবে। তখন পুলিশ তুলতে আসলে, মেয়েদের ধরে FIR করবে। এটা পার্শিয়ালিটি।'' তিনি আরো বলেন, ''আমায় মিটিংটা পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না। আমি পারমিশন নিয়েছি।'' এই বলেই সভা ছাড়েন তিনি।
আর কি বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ''আমাদের মিটিং-এর মাইকটা ক্রস করছে অন্য একটা মাইক-এর শব্দে। এটাতো হতে পারে না। আমরা অফিসিয়াল পারমিশন নিয়ে করছি।'' এরপর সভায় দাঁড়িয়ে কাউকে ফোন করেন তৃণমূলনেত্রী। তারপর বলেন, “মিটিং আমার পক্ষে করা সম্ভব? পারমিশন নিয়ে। এ বার আপনারা বলুন। সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছেন। আমি সব অফিশিয়াল পারমিশন নিয়েছি। তারপরও দেখুন কী অ্যাটিটিউড। ওরা জোর করে পশ্চিমবঙ্গকে দখল করতে যা করছে, তা কিন্তু ঠিক নয়। আমি এক মাস এখানে ছিলাম না। আমি জেলায় জেলায় ঘুরছিলাম ২০০ আসনের জন্য। অভিষেকও প্রায় ১০০ আসনের জন্য প্রচার করছে। আপনারা যদি এমন আচরণ করেন, তা হলে আমি দুঃখিত। আমি আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।''
বুঝতে পারছেন? পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করছে কে? : মমতা
তিনি আরও বলেন, ''বুঝতে পারছেন, পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করছে কে। এই দেখুন, সামনে চিৎকার করছে, যাতে আমি মিটিংটা করতে না পারি। আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি কাল এখানে র্যালি করে দেব। আমি এই অসভ্যতামি করতে পারব না। এটা খুব অপমানজনক।''
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে, বিজেপির পাল্টা দাবি, সাধারণ মানুষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ দেখিয়েছে, এর সঙ্গে দলের কোনো উস্কানি নেই। ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে ভোটের মুখে এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ