অমিত বণিক, জলপাইগুড়ি: আসন্ন নির্বাচনের আগে বুধবার জলপাইগুড়িতে সম্পন্ন হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত পোলিং এজেন্ট এবং ভোটকর্মীদের ভোটগ্রহণ পর্ব। এদিন শহরের ফনীন্দ্রদেব বিদ্যালয়ে এই বিশেষ ভোটগ্রহণের আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল থেকেই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে বুথের বাইরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মচারীদের।
কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারি
ভোট প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে নিরাপত্তার কোনও ত্রুটি রাখা হয়নি। বুথ চত্বরে কড়া পাহারায় মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। এছাড়া বুথের মূল ফটক থেকে শুরু করে আশেপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা বসানো হয়েছিল, যার মাধ্যমে গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ধীরগতি ও হয়রানির অভিযোগ
নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও, ভোটগ্রহণের ধীরগতি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোট দিতে আসা বহু সরকারি কর্মচারী। তাঁদের অভিযোগ, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা উচিত ছিল। সকাল থেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় অনেকেই প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির সম্মুখীন হন। বিশেষ করে দিনটি 'পয়লা বৈশাখ' বা নববর্ষ হওয়ায় অনেকেরই পরিবার বা পরিজনদের সাথে সময় কাটানোর অন্য পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বুথের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হওয়ায় সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলেছে অব্যবস্থাপনা। মধ্যাহ্নভোজনের সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও লাইন এগোয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
কী বলছেন ভোটকর্মীরা?
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটকর্মীদের চোখেমুখে ক্লান্তি ও বিরক্তির ছাপ ছিল স্পষ্ট। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।
লাইনে অপেক্ষারত এক সরকারি কর্মচারী আক্ষেপের সুরে বলেন, "আজ পয়লা বৈশাখের দিন। ভেবেছিলাম একটু তাড়াতাড়ি ভোট দিয়ে বাড়ি গিয়ে পরিবারের সাথে সময় কাটাবো। কিন্তু সকাল থেকে এই রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। দুপুর গড়িয়ে গেল, কিন্তু লাইন এগোচ্ছে খুব ধীরে। এই দিনটাতে অন্তত একটু দ্রুত কাজ হলে ভালো হতো।"
পাশে দাঁড়ানো অপর এক বয়স্ক ভোটকর্মী সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "নিরাপত্তার ব্যবস্থা বা সেন্ট্রাল ফোর্স—সবই ঠিক আছে। কিন্তু ভোটগ্রহণের গতি বড্ড ধীর। আমরা নিজেরাই ভোটের ডিউটি করতে যাব, আমাদেরই যদি আজ ভোট দিতে এসে এমন হয়রানির শিকার হতে হয় এবং দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়, তাহলে সময় ব্যবস্থাপনায় (Time Management) আরও উন্নতি করা ভীষণ জরুরি।"
সব মিলিয়ে জলপাইগুড়িতে ভোটকর্মীদের এই ভোটগ্রহণ পর্ব কড়া নিরাপত্তায় নির্বিঘ্নে মিটলেও, নির্বাচন কমিশনের ধীরগতির কাজ এবং পরিকাঠামোগত ত্রুটি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ও অসন্তোষ রয়েই গেল।
জলপাইগুড়ি জেলার রাজনীতি এবং বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
সাংবাদিক - অমিত বনিক
জন্মসূত্রে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা অমিত বনিক স্নাতক সম্পন্ন করার পর ২০১৫ সাল থেকে পেশাদার সাংবাদিকতার জগতে পা রাখেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি 'সংবাদ একলব্য'-এর সাথে যুক্ত রয়েছেন। জলপাইগুড়ি শহর এবং এর আশেপাশের এলাকার তৃণমূল স্তরের খবর থেকে শুরু করে সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বস্তুনিষ্ঠতার সাথে তুলে ধরাই তাঁর প্রধান কাজ।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ