নয়াদিল্লি, সংবাদ একলব্য: বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) আবহে ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে এবং ইভিএম (EVM) নিয়ে যেকোনো ধরনের কারচুপি রুখতে এবার অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। নির্বাচনের আগে সমস্ত প্রিসাইডিং অফিসারদের (Presiding Officers) জন্য একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ইভিএম মেশিনের ওপর কোনো ধরনের টেপ, আঠা, কালি, রং বা এমনকি পারফিউম (ইত্র) লাগানো গুরুতর আইনি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?
অমর উজালায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে সমস্ত প্রিসাইডিং অফিসারদের যে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে, তাতে স্পষ্টভাবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে:
- বোতাম দৃশ্যমান রাখা: ইভিএম মেশিনের ব্যালট ইউনিটে থাকা সমস্ত প্রার্থীর নাম ও বোতাম যেন স্পষ্টভাবে দেখা যায়। কোনো প্রার্থীর বোতাম টেপ, আঠা বা অন্য কোনো সামগ্রী দিয়ে ঢাকা থাকা চলবে না।
- কালি বা পারফিউম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: ব্যালট ইউনিটের বোতামে কোনো রং, কালি, পারফিউম বা অন্য কোনো রাসায়নিক পদার্থ লাগানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কমিশনের মতে, এগুলি ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করা বা ভোটদানের গোপনীয়তা (Secrecy of Voting) ভঙ্গ করার চেষ্টা করা হতে পারে।
- তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ: ভোটকেন্দ্রে যদি এমন কোনো কার্যকলাপ প্রিসাইডিং অফিসারের নজরে আসে, তবে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে সেক্টর অফিসার বা রিটার্নিং অফিসারকে বিষয়টি জানাতে হবে।
- কঠোর শাস্তি ও পুনর্নির্বাচন: কমিশন কড়া ভাষায় জানিয়েছে, ইভিএমের সঙ্গে এই ধরনের যেকোনো আচরণকে 'ইভিএম কারচুপি বা হস্তক্ষেপ' (Tampering/Interference) হিসেবে ধরা হবে, যা একটি বড়োসড় নির্বাচনী অপরাধ। এই ধরনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কোনো রকম দ্বিধা না করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি ব্যবস্থা (Criminal Action) গ্রহণ করবে। প্রয়োজন পড়লে ওই নির্দিষ্ট বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণ (Repolling) করানো হতে পারে।
ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ
ইভিএম-এর নিরাপত্তার পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাতেও কড়া কমিশন। ১৯ ৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন কড়াকড়িভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের প্রচার শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ ভোটগ্রহণের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে, যে সমস্ত রাজনৈতিক দলের কর্মী, নেতা বা সমর্থকরা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন ক্ষেত্রের নিজস্ব ভোটার নন (বহিরাগত), তাঁদের অবিলম্বে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে।
নির্বাচনকে সম্পূর্ণ অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও প্রভাবমুক্ত রাখতেই নির্বাচন কমিশনের এই নজিরবিহীন কড়া অবস্থান বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
জাতীয় নির্বাচন ও রাজনীতির সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ