নয়াদিল্লি: ডেটিং এবং ম্যাট্রিমোনিয়াল অ্যাপে ভুয়ো প্রোফাইল খুলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে দেশজুড়ে ভয়াবহ প্রতারণা! কখনো ডাক্তার, কখনো আইনজীবী, আবার কখনো চিত্র প্রযোজক সেজে দেশের প্রায় ৫০০ জনেরও বেশি নারীর কাছ থেকে ২ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ।
দিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার সাইবার থানা পুলিশ 'রোমান্স স্ক্যাম'-এর এই বড়সড় চক্রের পর্দাফাঁস করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম আনন্দ কুমার (৩৫)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা।
কীভাবে চলত এই হাই-প্রোফাইল প্রতারণা?
দিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার পুলিশ আধিকারিক (ডিসিপি) অমিত গয়াল জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আনন্দ কুমার ডেটিং ও বিয়ের বিভিন্ন সাইট এবং অ্যাপ ব্যবহার করে মহিলাদের টার্গেট করত। সে নিজেকে একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও প্রতিষ্ঠিত পেশাদার (যেমন- ডাক্তার, ব্যবসায়ী, আইনজীবী বা চিত্র প্রযোজক) হিসেবে তুলে ধরত। প্রথমদিকে মহিলাদের সঙ্গে বন্ধু হিসেবে কথা বলা শুরু করত এবং ধীরে ধীরে তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করে প্রেমের সম্পর্ক বা মানসিক নির্ভরতা গড়ে তুলত।
বিশ্বাস অর্জনের পর সে হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য ব্যক্তিগত মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে কথা বলা শুরু করত। এরপরই সে চিকিৎসার জরুরি অবস্থা, ব্যবসায় ক্ষতি বা পারিবারিক সংকটের মতো মিথ্যে গল্প ফেঁদে মহিলাদের কাছ থেকে টাকা হাতানো শুরু করত। অনেক ক্ষেত্রে সে মহিলাদের বিয়ের প্রতিশ্রুতি, মডেলিংয়ের সুযোগ বা নামিদামি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির লোভও দেখাত। একটি ঘটনায় বৈভব অরোরা ছদ্মনামে এক মহিলার কাছ থেকেই সে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল।
ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল
তদন্তে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আর্থিক প্রতারণার পাশাপাশি অভিযুক্ত মহিলাদের ব্ল্যাকমেইল ও জোরপূর্বক তোলাবাজিও করত। অনলাইনে কথা বলার সময় সে মহিলাদের বুঝিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও চেয়ে নিত। পরে কোনো নারী টাকা দিতে অস্বীকার করলে, সেই গোপন ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করত।
পুলিশের তদন্ত ও গ্রেফতারি
বেশ কয়েকটি অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর, দিল্লির সাইবার থানার ইনস্পেক্টর প্রবেশ কৌশিক এবং সাব-ইনস্পেক্টর প্রিয়াঙ্কার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। ব্যাঙ্কের লেনদেন, অ্যাকাউন্টের বিবরণ এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের (Technical Analysis) মাধ্যমে পুলিশ অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তল্লাশির সময় অভিযুক্তের কাছ থেকে ৪টি স্মার্টফোন, ৮টি সিম কার্ড, একাধিক ডেবিট কার্ড এবং সোনার গয়না উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে সে একই সঙ্গে একাধিক সিম কার্ড ও ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত। দিল্লি এবং গাজিয়াবাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মহিলাদের সে একই কায়দায় প্রতারণার শিকার বানিয়েছে।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ