Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’ ও ‘মিথ্যাচার’-এর মারাত্মক অভিযোগ !

DA Case Supreme Court, WB DA News, Firdaus Shamim, West Bengal State Employees, Justice Indu Malhotra Committee, Bikash Ranjan Bhattacharya, DA Arrears, WBCPI, AICPI, মহার্ঘ ভাতা, সুপ্রিম কোর্ট ডিএ মামলা
ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ

নয়াদিল্লি, সংবাদ একলব্য: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) সংক্রান্ত মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে আরও এক দফায় পিছিয়ে গেল। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে এই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৬ মে।

তবে শুনানি পিছিয়ে গেলেও, এদিন সুপ্রিম কোর্টের বাইরে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন, প্রতারণা এবং সুপ্রিম কোর্টকে বিভ্রান্ত করার মারাত্মক অভিযোগ আনলেন মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবীরা। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম থেকে শুরু করে কর্মচারী সংগঠনের নেতৃত্ব রাজ্যের পেশ করা স্ট্যাটাস রিপোর্ট ও নয়া ডিএ হিসেবের তীব্র সমালোচনা করেন।

আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের বিস্ফোরক অভিযোগ

আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এদিন একটি মিসলেনিয়াস অ্যাপ্লিকেশন এবং স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা রেকর্ডে ছিল না। তবে আদালত তাঁদের বক্তব্য জাস্টিস ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের কমিটির সামনে রাখার সুযোগ দিয়েছে। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি নিম্নলিখিত অভিযোগগুলো তুলে ধরেন:

  • ডিএ-র নতুন সংজ্ঞা ও ভিত্তি বর্ষ পরিবর্তন: রাজ্যের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো, তারা সর্বভারতীয় মূল্যসূচক বা এআইসিপিআই (AICPI) মেনে ডিএ না দিয়ে, নিজেদের মতো করে ডিএ-র একটি নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছে। রোপা ২০০৯ (ROPA 2009) অনুযায়ী যেখানে বেস ইয়ার ৫৩৬ হওয়ার কথা, রাজ্য তা পরিবর্তন করে ডিএ-র পরিমাণ একধাক্কায় কমিয়ে দিয়েছে।
  • কর্মচারীদের মধ্যে বিভাজন: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোথাও বলা ছিল না যে কর্মচারীদের মধ্যে বিভাজন করতে হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার এ, বি, সি, ডি এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য আলাদা আলাদা ডিএ-র নিয়ম তৈরি করেছে।
  • ওয়েস্ট বেঙ্গল সিপিআই (WBCPI)-এর নয়া তত্ত্ব: ফিরদৌস শামিম অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে 'ওয়েস্ট বেঙ্গল সিপিআই' নামক একটি নতুন ধারণার অবতারণা করেছে, যা ২০০৬ সাল থেকে রেট্রোস্পেক্টিভভাবে (পিছনের তারিখ থেকে) লাগু করার চেষ্টা চলছে। অথচ ২০১১ সালের আগে এই ধরনের কোনও কনসেপ্টই ছিল না।
  • কিস্তির টাকা মেটাতে ব্যর্থতা: আদালতের নির্দেশ ছিল অবিলম্বে ২৫ শতাংশ ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে এবং বাকিটা কিস্তিতে দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তি ৩১ মার্চের মধ্যে মেটানোর কথা থাকলেও, রাজ্য সরকার তা মেটায়নি এবং যারা টাকা পেয়েছেন তাদের হিসেব সম্পূর্ণ ভুল।

ফিরদৌস শামিম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "সরকারের এই পদক্ষেপ আসলে চিটিংবাজি এবং প্রতারণা। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি।"

সুপ্রিম কোর্টকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা!

মামলার শুনানিতে এদিন সশরীরে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী রোহিত রোম, আলি রহিম, শেখর কুমার এবং ফিরদৌস শামিম। পাশাপাশি কলকাতা থেকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং গোপা বিশ্বাস।

উপস্থিত অন্যান্য আইনজীবীরা জানান, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ এআইসিপিআই (AICPI) রেট অনুযায়ী মেটাতে হবে। কিন্তু সরকার সেই নির্দেশ তো মানছেই না, উলটে ভিত্তিহীন হিসেব দেখিয়ে সর্বোচ্চ আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আগামী ৬ মে-র শুনানিতে এবং কমিটির সামনে এই বিষয়গুলো কড়াভাবে তুলে ধরা হবে বলে জানান তাঁরা।

৪% ডিএ-র বিজ্ঞপ্তি নিয়েও ক্ষোভ

রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় জানান, সময়ের অভাবে এদিন দুপুর ১টায় শুনানি শুরু হতে পারেনি। তিনি মনে করিয়ে দেন, সুপ্রিম কোর্ট আগেই জানিয়েছে যে ডিএ সরকারি কর্মীদের আইনগত অধিকার।

এর পাশাপাশি তিনি রাজ্য বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ ডিএ নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী বাজেটে ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করেছেন, কিন্তু আজও তার কোনও সরকারি অর্ডার (G.O.) বেরোয়নি। বাজেটে দাঁড়িয়ে একটা সরকার এভাবে মিথ্যে কথা বলছে, এটা অত্যন্ত লজ্জার।" অবিলম্বে এই ৪ শতাংশ ডিএ-র নির্দেশিকা প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

আগামী ৬ মে, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক পরেই এই মামলার পরবর্তী শুনানি। সেদিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এবং গঠিত কমিটি রাজ্যের এই নয়া হিসেব নিয়ে কী অবস্থান গ্রহণ করে, সেটাই এখন দেখার।

রাজ্য সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ডিএ (DA) এবং সুপ্রিম কোর্টের লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in

সংবাদ একলব্য লোগো

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।

ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code