Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

'ট্রাবল মেকার' দাগিয়ে কমিশন গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নিলে তাতে স্থগিতাদেশ, জানাল হাই কোর্ট

highcourt
'ট্রাবল মেকার' দাগিয়ে কমিশন গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নিলে তাতে স্থগিতাদেশ, জানাল হাই কোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় স্বস্তি পেল রাজ্যের শাসক দল। প্রায় ৮০০ জন নেতা-কর্মীকে ‘ট্রাবল মেকার’ বা অশান্তি সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (Preventive Detention) নেওয়ার কোনো নির্দেশ নির্বাচন কমিশন দিয়ে থাকলে, তার ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট।


আদালতের পর্যবেক্ষণ:

বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, শুধুমাত্র ‘ট্রাবল মেকার’ তকমা দিয়ে ঢালাওভাবে কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা যায় না। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:


সংবিধানে নাগরিকের ব্যক্তি স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সেই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা সম্ভব নয়।


‘ট্রাবল মেকার’ শব্দটি কোনো নির্দিষ্ট ফৌজদারি আইনের সংজ্ঞায় পড়ে না। তাই এই তকমা ব্যবহার করে ঢালাও নির্দেশ দেওয়া ‘প্রাথমিকভাবে ভুল’।


কেউ অপরাধ করলে পুলিশ অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে, কিন্তু কমিশনের এই ধরনের ‘অনির্দিষ্ট নির্দেশ’ কার্যকর করা যাবে না।


মামলার প্রেক্ষাপট:

রাজ্যের শাসকদলের আশঙ্কা তাদের ৮০০ কর্মীকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এই আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে প্রধান বিচারপতি পালের এজলাসে। তৃণমূলের হয়ে কোর্টে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এই তালিকায় তাঁদের দলের সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলর এবং পঞ্চায়েত স্তরের পদাধিকারীদের নাম রয়েছে। এর বিরুদ্ধেই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী মহম্মদ দানিশ ফারুকি।


কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল:

আদালতে মামলাকারীর পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন, "একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্যদের কেন এভাবে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে? কিসের ভিত্তিতে তাঁদের ‘ট্রাবল মেকার’ বলা হলো? এটি অত্যন্ত কলঙ্কজনক বিষয়।" তিনি আরও যুক্তি দেন যে, কাউকে গ্রেফতার করার আইনি ক্ষমতা পুলিশের আছে, কমিশনের নেই। কমিশন কেবল আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিতে পারে।


কমিশনের আইনজীবীর যুক্তি

অন্য দিকে কমিশনের আইনজীবী সওয়াল করেন, ‘‘আমাদের দায়িত্ব শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন করানো। আইনে যা বলা রয়েছে, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করছি। এই রাজ্যে (প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন) প্রথম বার ঘটছে না। সময় দিলে পুরো বিষয় আদালতে হলফনামা দিয়ে জানাতে রাজি। গণতন্ত্র সুরক্ষিত করতে আমাদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করতে হয়। যে সব অভিযোগ করা হচ্ছে তা গুরুতর। তাই আমরা সে সব প্রশ্নের জবাব দিতে চাই।’’ এর পরে কমিশনের তরফে আরও বলা হয়, ‘‘বিহারে ভোটের সময়ে কী ব্যবস্থা নিয়েছিলাম, দেখুন। সেখানেও একই ব্যবস্থা নিয়েছি কি না, দেখা হোক। কোনও রাজ্যকে আলাদা নজরে দেখি না। যে প্রথা রয়েছে, তা মেনে কাজ করি।’’

সংবাদ একলব্য লোগো

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।

ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code