কলকাতা, সংবাদ একলব্য: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে বিভিন্ন সমীক্ষক সংস্থার এক্সিট পোল (Exit Poll) বা বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। কিন্তু এরই মধ্যে রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় চমক দিল দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য এবং জনপ্রিয় সমীক্ষক সংস্থা 'অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া' (Axis My India)। বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল সংস্থার প্রধান প্রদীপ গুপ্ত একটি অফিশিয়াল প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের জন্য কোনো এক্সিট পোল প্রকাশ করবেন না। ডেটার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং পরিসংখ্যানগত নির্ভরযোগ্যতার অভাবেই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সমীক্ষকদের কালঘাম ছোটালেন বাংলার 'সাইলেন্ট ভোটার'রা
প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মাঠে নেমে কাজ করতে গিয়ে এক অদ্ভুত এবং পরিসংখ্যানগত দিক থেকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মুখে পড়েন সমীক্ষকরা। দেখা যায়, সমীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য যাঁদের কাছে যাওয়া হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটারই কোনো উত্তর দিতে অস্বীকার করেন। ভোটারদের এই বিপুল পরিমাণ 'নন-রেসপন্স রেট' (Non-response rate) বা নীরবতা অতীতের সমস্ত ঐতিহাসিক মাপকাঠিকে অনেকটাই ছাপিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে যারা উত্তর দিয়েছেন, শুধুমাত্র তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছালে মারাত্মক 'নন-রেসপন্স বায়াস' (Non-response bias) বা পক্ষপাতিত্ব তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। 'নীরব ভোটার'-দের এই আচরণের কারণেই সমীক্ষার পূর্বাভাস ভুল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ব্যাপক সমীক্ষার পরও কেন পিছু হঠল সংস্থা?
অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া জানিয়েছে, গত সাত দিন ধরে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই তাঁরা সমীক্ষার জন্য কাঠামোগত ফিল্ডওয়ার্ক চালিয়েছেন। তাদের ৮০ জন প্রশিক্ষিত সমীক্ষক ১৬টি দলে ভাগ হয়ে গোটা রাজ্যে কাজ করেছেন। তাঁরা প্রায় ৮,৩২৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ১৩,২৫০ জনেরও বেশি ভোটারের স্যাম্পেল সাইজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। এমনকি প্রথম দফার ভোটের পর খোদ প্রদীপ গুপ্ত নিজে মাঠে নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। কিন্তু এই বিপুল কর্মযজ্ঞের পর অভ্যন্তরীণভাবে সংগৃহীত ডেটা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তাঁরা দেখেন যে, তথ্যগত গুণমান এমন এক স্তরে রয়েছে যেখান থেকে কোনো সঠিক বা নির্ভরযোগ্য আভাস দেওয়া কার্যত অসম্ভব।
স্বচ্ছতা ও সততা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত
সংস্থার তরফে প্রদীপ গুপ্ত জানিয়েছেন, এই তীব্র প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী পরিবেশে ভোটারদের এই আংশিক মতামত প্রকাশ ফলাফলের পূর্বাভাসকে মারাত্মকভাবে ভুল পথে চালিত করতে পারে। তাই দর্শকদের হতাশ করলেও, পদ্ধতিগত সততা, স্বচ্ছতা এবং ডেটার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকেই তাঁরা ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্ভরযোগ্যতার অভ্যন্তরীণ মানদণ্ড পূরণ না হওয়ায় এক্সিট পোল প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকাই বেশি দায়িত্বশীল কাজ বলে তারা মনে করেছে।
অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার মতো প্রথম সারির সংস্থার এই সিদ্ধান্ত বাংলার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাসপেন্স আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। ভোটারদের এই প্রবল নীরবতা আসলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত নাকি শাসকদলের প্রতি নিঃশব্দ সমর্থন, তা জানতে এখন আগামী ৪ মে চূড়ান্ত ফলপ্রকাশ পর্যন্তই অপেক্ষা করতে হবে গোটা দেশকে।
রাজ্য রাজনীতির সমস্ত লেটেস্ট ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ