Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

পুরনো রীতি মেনে আজও বর্তমান কুড়ুমুনের গাজনে মরার মাথা খেলা

পুরনো রীতি মেনে আজও বর্তমান কুড়ুমুনের গাজনে মরার মাথা খেলা
বক্তব্য থামিয়ে অ্যাম্বুলেন্স পাস করার ব্যবস্থা করলেন সায়ন্তন গুহ

সঞ্জিত কুড়ি, পূর্ব বর্ধমান:- আজ থেকে প্রায় পাঁচশো বছরেরও বেশি সময় ধরে পূর্ব বর্ধমানের কুড়মুন গ্রামে গাজন উৎসবকে কেন্দ্র করে চলে মৃত মানুষের মাথা নিয়ে খেলা। এই খেলা দেখতে কুড়মুন গ্রামে ভিড় জমায় লক্ষ লক্ষ মানুষ।


গাজনে মরার মাথা খেলার ইতিহাস


লোকমুখে প্রচলিত আজ থেকে প্রায় পাঁচশো বছরের বেশি সময় আগে পূর্ব বর্ধমানের কুড়মুন গ্রামে খড়ি নদীতে আসেন বাবা ঈশানেশ্বর ও দেবী পার্বতী।স্বপ্নাদেশ পেয়ে খড়ি নদীর "দ" থেকে বাবা ঈশানেশ্বর ও দেবী পার্বতী কে ঢাক ঢোল বাজিয়ে নিয়ে আসাহয় কুড়মুন গ্রামে। প্রতিষ্ঠিত করা হয় কুড়মুন গ্ৰামের ঘোষাল পাড়ায়।যা আজ ঈশানেশ্বর তলা তলা নামে পরিচিত। কিছুদিন পর ফের স্বপ্নাদেশ পেয়ে ঈশানেশ্বর ও পার্বতী পুত্র বার্ণলিঙ্গ শিবকে নিয়ে আসা হয় কুড়মুন গ্ৰামের মোরল পাড়ায়।যা আজ বুড়ো শিবতলা নামে পরিচিত। প্রতিবছর ১৩ই চৈত্র মহাধুমধামের সাথে বাবা ঈশানেশ্বর ও দেবী পার্বতী এবং বার্ণলিঙ্গ শিবকে নিয়ে আসা হয় বুড়ো শিবতলায়।প্রায় এক মাসের ও বেশি সময় ধরে এই স্থানে থাকেন বাবা ঈশানেশ্বর,মা পার্বতী ও পুত্র বার্ণলিঙ্গ শিব।১লা জৈষ্ঠতে পূনরায় তাদের যথাস্থানে রাখা হয়।ভীন্ন মতে কুড়মুনের বুড়ো শিবতলায়টি "নাকি" ঈশানেশ্বরের শ্বশুর বাড়ি।



তিথি অনুযায়ী কোনো বার ২৫ শে চৈত্র থেকে ২৮ চৈত্র আবার কোনো বার ২৬ চৈত্র থেকে ২৯ শে চৈত্র এই চারদিন গাজনেশ্বরের পালকি করেই পাশাপাশি গ্রাম প্রদক্ষিণ করেন শিব। গ্রাম সন্ন্যাসীরা পালকি বহন করে বুড়ো শিবকে নিয়ে যান। পরদিন অর্থাৎ ২৯ বা ৩০ শে চৈত্র প্রত্যুষে শ্মশান-সন্ন্যাসীরা শ্মশান থেকে নরমুণ্ড নিয়ে উৎসব-নৃত্য করতে করতে গাজন তলায় এসে নৃত্য ও লোফালুফি করেন। এবং পরে সেগুলো শ্মশানে মাটির তলায় পুঁতে রাখেন। নৃত্যের সময় সন্যাসীদের হাতে তলোয়ার ও থাকে।মুখে রং মেখে নানান সাজে তারা এই খেলা করেন।


শ্মশান-সন্ন্যাসীরা আগে থেকেই নরমুণ্ড গ্রাম্য শ্মশান থেকে সংগ্রহ করে তা তেল সিঁদুর মাখিয়ে পুতে রাখতেন মাটির তলায়। এবং তা পাহাড়াও দিতেন। মুণ্ড-নৃত্য করার অধিকার সব সন্ন্যাসীদের থাকে না, কেবল শ্মশান-সন্ন্যাসীদের থাকে। মণ্ডলরা অনুমতি দিলে শ্মশান-সন্ন্যাসীদের প্রধান যিনি, তিনি অধিকার মেনে নিতেন। সাধারণত, এই অধিকার বংশপরম্পরায়।



ভিন্ন মতে শিব শ্মশানে-মশানে থাকেন, ভূতপ্রেত তাঁর সহচর। শ্মশান–সন্ন্যাসীরা তাই শিবের সব চেয়ে নিকট-আত্মীয় এবং অন্যান্য শ্মশান-সন্ন্যাসীদের চেয়ে তাঁদের সম্মানও তাই বেশি। যদিও মন্দিরের শিলালিপিতে খোদাই আছে ১৭৪৫ সালে স্থাপিত।সেই সময়কাল ধরে বর্তমান সময়ে ২৮০ বছর।এরও আগে থেকেই এই গাজন উ‌‌ৎসব হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

গাজন উ‌‌ৎসব কমিটির সদস্য কৃষ্ণেন্দু গোস্বামীর কথায়


গাজন উ‌‌ৎসব কমিটির সদস্য কৃষ্ণেন্দু গোস্বামী বলেন বাবা ঈশানেশ্বর ১৩ ই চৈত্র থেকে ৩১শে বৈশাখ পর্যন্ত এই শিবতলা মন্দিরে থাকে। বাকি সময়টা ঈশানেশ্বর তলায় থাকে। কথিত আছে নদীর "দ" থেকে বাবা ঈশানেশ্বরকে পাওয়া গেছে।মরার মাথা নিয়ে খেলা মূলত শুরু হয়েছিল চুয়ার বিদ্রো থেকে বা গ্রামের বাউড়ি সম্প্রদায় থেকেও আসতে পারে বলে মনে করা হয়। মরার মাথা প্রথমে শ্মশানে পুজো করা হয়। তাদের জাগানো হয়।এর পর ২৮ বা ২৯ শে চৈত্র ভোরে শ্মশান থেকে এই মরার মাথা নৃত্য করে আনা হয়।ঐদিন ভোর থেকে ঢাকের বোলে বাঁচতে থাকে ধর ধর ধর মরার মাথা কত দূর দূর যায় রে।এই গ্রামে হিন্দু মুসলিম বাউরি খ্রিষ্টান সমস্ত সম্প্রদায় মানুষের বসবাস আছে ।এই গাজন উপলক্ষে বেশ কয়েকদিন ধরে মেলা বসে গ্ৰামে।তবে এবছর ৩০শে চৈত্র ভোরে মরার মাথা নিয়ে খেলা হবে বলে জানান তিনি।

গাজন উ‌‌ৎসবের হরি সাধন ঘোষালের কথায় 

হরি সাধন ঘোষাল বলেন প্রায় ৫০০ বছর আগে স্বপ্নাদেশ পেয়ে নদীর বাবা ঈশানেশ্বরকে পাওয়া যায়। পড়ে ফের স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুত্র বার্ণলিঙ্গ শিবকে নিয়ে আসা হয়। সেই থেকেই এই গাজন উ‌‌ৎসব শুরু হয়। এছাড়াও কুড়মুনের ঈশানেশ্বর মন্দিরে আছে ইন্দ্রের স্ত্রী ইন্দ্রানী।বাবা ঈশানি,দেবী পার্বতী,ও বার্ণলিঙ্গ শিবের পাশাপাশি দেবী ইন্দ্রানী ও অন্যান্য দেবদেবী দের নিত্য সেবা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।


সংবাদ একলব্য লোগো

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।

ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code