Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

ডিএ জট: ৩.১৭ লক্ষের হিসেবে কি বকেয়া থেকে বাদ পড়লেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা? মডিফিকেশন আবেদনে ফাঁস আসল সত্য

ডিএ জট: ৩.১৭ লক্ষের হিসেবে কি বকেয়া থেকে বাদ পড়লেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা? মডিফিকেশন আবেদনে ফাঁস আসল সত্য

West Bengal DA Case Update 2026, Teachers DA Arrears, Supreme Court Modification Petition, সংবাদ একলব্য

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটির কাছে রাজ্য সরকার বকেয়া ডিএ (DA) প্রাপক হিসেবে ৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৯৫৪ জন কর্মীর হিসেব পেশ করেছে। আর এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর থেকেই রাজ্যের বৃহত্তর কর্মচারী মহলে, বিশেষ করে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মীদের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, তবে কি সুকৌশলে এই বৃহত্তর অংশটিকে বকেয়া ডিএ থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে রাজ্য? কিন্তু সদ্য সামনে আসা রাজ্য সরকারের 'মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন' (Modification Application) বা নির্দেশ সংশোধনের আর্জি থেকে যে তথ্য মিলেছে, তাতে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কী বলা হয়েছিল?

গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট ডিএ মেটানোর যে রায় দিয়েছিল, তার ডিরেকশন অংশটি খুঁটিয়ে দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাদের রায়ের কোথাও নির্দিষ্টভাবে 'স্টেট গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজ' (State Government Employees) বা কেবল রাজ্য সরকারি কর্মী শব্দটি ব্যবহার করেনি। রায়ের ৫৯.২ এবং ৫৯.৪ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে 'এমপ্লয়িজ' (Employees) বা কর্মীদের কথা বলা হয়েছে। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে শব্দচয়ন করেছে আদালত। অর্থাৎ, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিধি থেকে শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীদের বাদ পড়ার কোনো আইনি ভিত্তি আপাতত নেই।

রাজ্য সরকারের নিজস্ব স্বীকারোক্তি ও পরিসংখ্যান

সবচেয়ে বড় প্রমাণটি লুকিয়ে রয়েছে খোদ রাজ্য সরকারের গত ৭ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশনে। সেখানে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ প্রসঙ্গে রাজ্য সরকার লিখিতভাবে স্বীকার করেছে যে, খোদ সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, বিধিবদ্ধ সংস্থা, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং লোকাল বডির কর্মীদেরও একই হারে (Same DA) ডিএ প্রদান করা হয়।

শুধু তাই নয়, এই আবেদনে রাজ্য সরকার স্পষ্ট পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছে:

  • রাজ্যের সরাসরি সরকারি কর্মীর সংখ্যা: ৩,৪০,৭৯৭ জন (যা ২০০৮-১৯ সময়কালের নিরিখে ৩,১৭,৯৫৪ জন)।
  • সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা: ৩,৮৮,০৮৪ জন।
  • শহর ও গ্রামাঞ্চলের লোকাল বডির কর্মীর সংখ্যা: ৫৩,৭২৮ জন।

তবে কি বঞ্চনার আশঙ্কা অমূলক?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্য সরকার যখন সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া নিজেদের আইনি নথিতেই শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও অন্যান্য কর্মীদের পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে এবং তাঁদের 'সেম ডিএ' পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে, তখন তাঁদের বকেয়া থেকে বাদ দেওয়ার তত্ত্বটি এখনই ধোপে টেকে না। বকেয়া ডিএ-র হিসেব নিকেশ করার জন্য রাজ্য সরকার যে নতুন ডিজিটাল পোর্টাল খুলতে চলেছে এবং সার্ভিস বুক আপলোড করার যে প্রসেসিং শুরু হতে চলেছে, তার সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেই এই বিষয়টি সম্পূর্ণ দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাই এখনই শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের হতাশ বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

ডিএ মামলার প্রতি মুহূর্তের ব্রেকিং নিউজের আপডেট পেতে চোখ রাখুন: sangbadekalavya.in

সংবাদ একলব্য লোগো

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।

ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code