ইরান যুদ্ধে সাহায্য না করায় ন্যাটো দেশগুলির ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, দিলেন 'অন্ধকার ভবিষ্যতের' হুঁশিয়ারি!
ওয়াশিংটন, সংবাদ একলব্য: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে আমেরিকার পাশে না দাঁড়ানোর জন্য ন্যাটো (NATO) মিত্রদের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' (Strait of Hormuz) পুনরায় খোলার বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলির কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাহায্য না পেয়ে প্রকাশ্যেই মিত্র দেশগুলির কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। শুধু ন্যাটো নয়, ট্রাম্প নিশানা করেছেন চীনকেও।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ক্ষোভ
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এবং নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মার্কিন মিত্ররা যদি হরমুজ প্রণালী নিরাপদ করার উদ্যোগে ওয়াশিংটনকে সমর্থন না করে, তবে ন্যাটো জোটের সামনে "অত্যন্ত খারাপ" ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।
ট্রাম্প হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "গত ৪০ বছর ধরে আমরা এই দেশগুলিকে রক্ষা করে আসছি, অথচ এখন একটি বিষয়ে তারা আমাদের সাহায্য করতে উৎসাহ দেখাচ্ছে না। কারও কারও প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ধীর।" বিশেষ করে ব্রিটেনের দিক থেকে আসা প্রতিক্রিয়ায় তিনি যে 'মোটেও খুশি নন' এবং 'অত্যন্ত বিস্মিত', সে কথাও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের দাবি, অধিকাংশ ন্যাটো দেশই এই সংঘাতে জড়াতে চাইছে না।
চীনকেও কড়া বার্তা
হরমুজ প্রণালীর জলপথ আটকে থাকার প্রভাব বিশ্বব্যাপী জ্বালানির বাজারে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প চীনকেও সাহায্য করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, "চীনের উচিত এই প্রণালী খুলতে সাহায্য করা, কারণ তাদের তেলের ৯০ শতাংশই এই পথ দিয়ে আসে।" এই বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান স্পষ্ট না হলে চলতি মাসের শেষে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর নির্ধারিত বৈঠক তিনি স্থগিত করতে পারেন বলেও প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
ন্যাটো ও ইউরোপীয় দেশগুলির অবস্থান
ট্রাম্পের এই চাপের মুখেও ইউরোপীয় দেশগুলি নিজেদের অবস্থানে অনেকটাই অনড়। জার্মানি, ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের মতো দেশগুলি পরিষ্কার জানিয়েছে যে, তারা এই মুহূর্তে আমেরিকার সাথে সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না।
- ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী মুক্ত করার কোনো সামরিক পদক্ষেপে ফ্রান্স অংশ নেবে না।
- জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ জানিয়েছেন, "এটি ন্যাটোর যুদ্ধ নয়। এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার মতো কোনো আইনি বা আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট আমাদের নেই। ওয়াশিংটন বা ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর আগে আমাদের সাথে পরামর্শ করেনি।"
- ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী খোলাটা জরুরি হলেও ব্রিটেন এই বৃহত্তর যুদ্ধে নিজেদের জড়াবে না।
আমেরিকা এবং ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের কারণে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। এমন অবস্থায় মিত্র দেশগুলির এই পিছু হটা এবং ট্রাম্পের প্রকাশ্য ক্ষোভ পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বড়সড় ফাটলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতির ব্রেকিং খবরের লাইভ আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ