২৪ ঘণ্টার অনশন শেষে এসআইআর (SIR) ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রকে কড়া বার্তা মন্ত্রী উদয়ন গুহর
সমীর হোসেন, দিনহাটা, সংবাদ একলব্য: তড়িঘড়ি ও অপরিকল্পিতভাবে এসআইআর (SIR) কার্যকর করে রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম 'বিচারাধীন' (Under Review) তালিকায় রাখার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ২৪ ঘণ্টার গণঅনশন কর্মসূচি পালিত হল। এই অনশন কর্মসূচি শেষে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্র সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহ।
সুপ্রিম কোর্টের ওপর পূর্ণ আস্থা
২৪ ঘণ্টার অনশন কর্মসূচি স্থগিত করার প্রাক্কালে মন্ত্রী উদয়ন গুহ জানান, এই কর্মসূচিতে তাদের লক্ষ্য ছিল অন্তত ২০০ জনের উপস্থিতি, কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থক এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছেন। ভিড় এতটাই ছিল যে, অনেককে রাস্তায় চাদর বিছিয়ে রাত কাটাতে হয়েছে। দিল্লির ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "দিল্লির নতুন দাদার ওপর আমাদের কোনো ভরসা নেই, আস্থাও নেই, কিন্তু বিচার ব্যবস্থার ওপর আমাদের পুরোপুরি আস্থা আছে।" আজ সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত একটি শুনানি রয়েছে, যার রায়ের দিকে তারা তাকিয়ে আছেন এবং সেই রায়ের ভিত্তিতেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের কড়া সমালোচনা
এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে উদয়ন গুহ বলেন, খোদ রাজ্যের মন্ত্রী, বর্তমান ও প্রাক্তন বিধায়ক, পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদের সদস্যদের নামও এই বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে এর সুরাহা করতে হবে। তাঁর দাবি, যতক্ষণ না এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ বিচারাধীন তালিকায় থাকা প্রত্যেক নাগরিককে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে হবে।
সাংবিধানিক সংকটের হুঁশিয়ারি
নির্বাচন পিছনোর বা রাষ্ট্রপতি শাসনের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, আগামী ৭ই মে-র মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করে রাজ্যে নতুন সরকার গঠন করতে হবে, অন্যথায় সাংবিধানিক সংকট দেখা দেবে। নির্বাচন কমিশন যেন এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয় যা এই সংকট তৈরি করে। তিনি ২০০২ সালের এসআইআর-এর উদাহরণ টেনে বলেন, সেটি ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এবং ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে হয়েছিল, কিন্তু এবার নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের পদক্ষেপ পরিকল্পিতভাবে জটিলতা সৃষ্টির জন্যই করা হয়েছে।
'অনুপ্রবেশকারী' তত্ত্বের জবাব
বিরোধীদের 'অনুপ্রবেশকারী' তত্ত্বের কড়া জবাব দিয়ে তিনি বলেন, তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এই ৬০ লক্ষ মানুষ অনুপ্রবেশকারী, তবে এই একই ভোটার তালিকা নিয়েই তো ২০২৪ সালে ভোট হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসেছেন; সেক্ষেত্রে তাঁদের আগে পদত্যাগ করা উচিত। সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই তাদের আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি হবে বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
বক্তব্যের বিস্তারিত ভিডিও দেখুন:
রাজ্য রাজনীতির সমস্ত ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
সাংবাদিক - সমীর হোসেন
বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী সমীর হোসেন ২০২১ সালে 'সংবাদ একলব্য'-এর মাধ্যমে সিটিজেন জার্নালিস্ট হিসেবে সাংবাদিকতা জগতে পা রাখেন। বর্তমানে তিনি এই পোর্টালের একজন নির্ভরযোগ্য সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত। কোচবিহার জেলার শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি থেকে শুরু করে রাজনীতির ময়দান— সব ধরনের খবর অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বস্তুনিষ্ঠতার সাথে পাঠকের কাছে তুলে ধরাই তাঁর প্রধান কাজ।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ