White Phosphorus Attack in Lebanon: ইজরায়েলের ভয়াবহ হামলায় গলে যাচ্ছে শরীর! ৪০০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বেইরুট/তেল আভিভ: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ আরও ভয়াবহ ও অমানবিক রূপ নিচ্ছে। গাজার পর এবার ইজরায়েলের মূল নিশানায় লেবানন (Lebanon)। তবে এবার শুধু সাধারণ বিমান বা মিসাইল হামলা নয়, ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের (IDF) বিরুদ্ধে লেবাননের মাটিতে প্রাণঘাতী 'সাদা ফসফরাস' (White Phosphorus) ব্যবহারের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই রাসায়নিক হামলায় লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রাসায়নিকের তীব্র তাপে আক্ষরিক অর্থেই পুড়ে গলে যাচ্ছে মানুষের শরীর। সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা ৪০০ ছুঁয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাদা ফসফরাস কী এবং কেন এটি এত ভয়ানক?
সাদা ফসফরাস হলো একটি অত্যন্ত দাহ্য এবং বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। এটি অক্সিজেনের বা বাতাসের সংস্পর্শে এলেই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে এবং এর তাপমাত্রা প্রায় ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই রাসায়নিক মানুষের শরীরে লাগলে তা ত্বক এবং মাংসপেশি ভেদ করে একেবারে হাড় পর্যন্ত পুড়িয়ে দেয়। জল দিয়েও সহজে এই আগুন নেভানো যায় না। এর ধোঁয়া মানুষের চোখ ও শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের বসবাসকারী বা জনবহুল এলাকায় সাদা ফসফরাস বা এই জাতীয় দাহ্য অস্ত্রের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটিকে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে গণ্য করা হয়।
৪০০ জনের মৃত্যু ও ভয়াবহ পরিস্থিতি
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক সূত্র অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবানন এবং হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইজরায়েলের সাম্প্রতিক এই লাগাতার হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, তীব্র বোমা বর্ষণ এবং ফসফরাস বিস্ফোরণের জেরে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ গুরুতর দগ্ধ বা আহত হয়েছেন। ফসফরাসের কারণে আহতদের চিকিৎসা করাও চিকিৎসকদের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়ছে রোগীদের ভিড়।
কী বলছে আন্তর্জাতিক মহল?
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (Human Rights Watch) এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের (Amnesty International) মতো শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই লেবাননে ইজরায়েলের সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগের তীব্র নিন্দা করেছে। তারা এই ঘটনার স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইজরায়েল সেনা সাধারণত দাবি করে থাকে যে তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই সমস্ত যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে এবং সাদা ফসফরাস মূলত যুদ্ধের ময়দানে 'স্মোকস্ক্রিন' বা ধোঁয়াশা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়, সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে নয়।
তবে লেবাননের সাধারণ মানুষের বর্তমান অবস্থা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বীভৎস ছবিগুলো সেই দাবির ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ, এই সংঘাত শীঘ্রই না থামলে মধ্যপ্রাচ্যে এক নজিরবিহীন ও মর্মান্তিক মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমস্ত ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ