Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

রাজ্য সরকারকে এক সপ্তাহের চরমসীমা! দাবি না মানলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারের হুঁশিয়ারি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের

রাজ্য সরকারকে এক সপ্তাহের চরমসীমা! দাবি না মানলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারের হুঁশিয়ারি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের

DA Protest West Bengal, Sangrami Joutha Mancha ultimatum to WB govt, West Bengal DA Arrears, State Government Employees DA, Supreme Court DA Order, DA payment PF lock-in, ROPA 2009 DA arrears, বকেয়া ডিএ, রাজ্য সরকারি কর্মচারী, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, সংবাদ একলব্য
সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য সরকারকে চরমসীমা বেঁধে দিল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ

কলকাতা, সংবাদ একলব্য: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানো নিয়ে রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশিকার তীব্র সমালোচনা করল 'সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ'। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে 'তঞ্চকতা' এবং 'প্রবঞ্চনা'-র অভিযোগ তুলে আগামী এক সপ্তাহের চরমসীমা বেঁধে দিলেন আন্দোলনকারীরা। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে, রাজ্যের ১০ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনারদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার চালানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

কী নিয়ে ক্ষোভ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের?

একটি সাংবাদিক বৈঠকে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতৃত্ব জানান, সুপ্রিম কোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশ ছিল ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পঞ্চম বেতন কমিশনের (ROPA 2009) বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মেটাতে হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ এড়িয়ে গিয়ে শুধুমাত্র সরাসরি সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের জন্য তা কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্টে 'মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন' এবং 'রিভিউ পিটিশন' দায়ের করে।

এরপর গত ৮ তারিখ, ১৩ তারিখের সর্বাত্মক ধর্মঘট এবং ২৬ তারিখের টানা চার ঘণ্টা কলকাতা অবরোধের মতো লাগাতার আন্দোলনের চাপে পড়ে তড়িঘড়ি ডিএ মেটানোর ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু প্রকাশিত অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ দুটি কিস্তিতে মেটানো হবে এবং কর্মরতদের ক্ষেত্রে সেই টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ডে (PF) পাঠিয়ে দু'বছরের জন্য 'লক-ইন' (Lock-in) করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ ২০২৮ সালের আগে কর্মীরা সেই বকেয়া টাকা হাতে পাবেন না। মঞ্চের দাবি, এটি কর্মচারীদের সামনে নতুন করে গাজর ঝোলানোর সামিল এবং চরম বিশ্বাসঘাতকতা।

এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম

যৌথ মঞ্চের অভিযোগ, শিক্ষক, পঞ্চায়েত ও পুরসভা কর্মীদের মতো সরকার পোষিত ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য এখনও কোনো নির্দেশিকা জারি করা হয়নি; তাঁদের বিষয়টি 'কিছু সময়ের জন্য বিবেচনাধীন' বলে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আগামী ২৪শে মার্চের মধ্যে রাজ্য সরকারকে মূলত দুটি দাবি পূরণের জন্য এক সপ্তাহের চরমসীমা দেওয়া হয়েছে:

  1. সুপ্রিম কোর্ট থেকে রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন এবং রিভিউ পিটিশন প্রত্যাহার করতে হবে।
  2. এক সপ্তাহের মধ্যেই সমস্ত দপ্তরের (শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত ইত্যাদি) কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য 'ম্যাচিং অর্ডার' বা সমতুল্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।

বাড়ি বাড়ি প্রচারের ডাক

এই সময়সীমার মধ্যে সরকার সদর্থক পদক্ষেপ না নিলে, চলমান আন্দোলনের রূপরেখা বদলাবে বলে জানিয়েছেন মঞ্চের নেতারা। তাঁরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দাবি না মানলে রাজ্যের ১০ লক্ষ কর্মচারী ও পেনশনার একজোট হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালাবেন।

এই প্রচার কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, বরং রাজ্যের বেহাল পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরাই এর লক্ষ্য। রাজ্যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, ৬ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগ না হওয়া, অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণ না করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বেহাল দশা এবং কাটমানি-সিন্ডিকেটের মতো বিষয়গুলি তাঁরা মানুষের সামনে তুলে ধরবেন। সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো একটি মন্তব্যকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁরা বলেন, "যে সরকার কর্মচারীদের ডিএ দিতে পারে না, তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই"।

বকেয়া ডিএ এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনের সমস্ত লাইভ আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in

সংবাদ একলব্য লোগো

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।

ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code