রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে চরমে সংঘাত! 'লজ্জাজনক' বলে তৃণমূলকে তোপ মোদীর, 'বিজেপির ফাঁদে পা দিয়েছেন', পাল্টা মমতা
নিজস্ব সংবাদদাতা: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল নয়া বিতর্কের ঝড়। শিলিগুড়িতে একটি আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে এসে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন রাষ্ট্রপতি। আর সেই সূত্র ধরেই শনিবার সন্ধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অন্যদিকে, শনিবার রাতেই ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সব মিলিয়ে, দেশের তিন শীর্ষ সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বের এই তরজায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
ঠিক কী বলেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু?
শনিবার শিলিগুড়ি ও ফাঁসিদেওয়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে ব্যবস্থাপনায় চূড়ান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। পূর্বনির্ধারিত স্থানে পর্যাপ্ত জায়গা নেই, এই যুক্তিতে প্রশাসন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বাগডোগরা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মাঠে এবং ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগরে অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সেখানে ফাঁকা চেয়ার দেখে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "এটা যে একটা আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্স, দেখে মনেই হচ্ছে না!"
প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশেও বার্তা দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, "আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোট বোন। জানি না, আমার উপর কী রাগ। যাই হোক… কোনও অভিযোগ নেই। উনি ভাল থাকুন।" এর পাশাপাশি রাজ্যের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ আদৌ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়েও প্রকাশ্যেই সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
'লজ্জাজনক ও নজিরবিহীন', এক্স হ্যান্ডলে সরব প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্যের পরই শনিবার সন্ধ্যায় নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে কড়া ভাষায় তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লেখেন, "এটি লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে।"
প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং রাষ্ট্রপতির পদের প্রতি এই অসম্মানের জন্য রাজ্যের প্রশাসনই সরাসরি দায়ী। সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে রাজ্য সরকার অত্যন্ত হালকাভাবে দেখছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
পরিসংখ্যান দিয়ে জবাব তৃণমূলের, ধর্নামঞ্চ থেকে সরব মমতা
রাষ্ট্রপতির মন্তব্যের পরই একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে দাবি করা হয় যে, রাষ্ট্রপতি ভুল ধারণা পোষণ করছেন। রাজ্য সরকারের 'শিক্ষাশ্রী', 'জয় জোহার' এবং 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার'-এর মতো প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তৃণমূল জানায়, রাজ্যের আদিবাসী মহিলারা এখন মাসে ১,৭০০ টাকা (বছরে ২০,৪০০ টাকা) আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। আদিবাসী সমাজকে রাজ্য সরকার কোনোরকম বঞ্চনা করেনি বলেই দাবি শাসকদলের।
অন্যদিকে, শনিবার রাতে ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকেই এই বিতর্কের কড়া জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু তাঁকে দিয়েও রাজনীতি করানো হচ্ছে। বিজেপির এজেন্ডা পাঠানো হয়েছে। আমি দুঃখিত ম্যাডাম, আপনার প্রতি আমার যথেষ্ট সম্মান আছে। কিন্তু আপনি বিজেপির ট্র্যাপে (ফাঁদে) পড়ে গিয়েছেন।"
অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, এটি রাজ্য সরকারের কোনো অনুষ্ঠান ছিল না। পাশাপাশি বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, "মণিপুরে যখন আদিবাসীদের উপর অত্যাচার হচ্ছিল তখন কেন প্রতিবাদ করা হয়নি? দেশের অন্য রাজ্যে আদিবাসীদের উপর অত্যাচার হলে চুপ থাকা হয়, আর বাংলাকেই শুধু নিশানা করা হয় কেন?"
রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির প্রতি মুহূর্তের ব্রেকিং নিউজের আপডেট পেতে চোখ রাখুন: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ