কলকাতা, সংবাদ একলব্য: দেশজুড়ে যখন চৈত্র নবরাত্রির (Chaitra Navratri) ভক্তিগীতি প্রতিধ্বনিত হয়, ঠিক সেই সময়েই পশ্চিমবঙ্গের বুকে দেবী দুর্গা পূজিতা হন 'বাসন্তী' রূপে। শরৎকালের শারদীয়া দুর্গাপুজোর মতোই বসন্তকালের এই 'বাসন্তী পুজো' (Basanti Puja) বাংলার এক প্রাচীন ও অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী উৎসব। এই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো মহা অষ্টমী বা দুর্গা অষ্টমী। ২০২৬ সালের অষ্টমীর সঠিক দিনক্ষণ এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে অষ্টমী স্নান ও মেলার গুরুত্ব নিয়ে অনেকের মনেই প্রবল উৎসাহ রয়েছে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক এর বিস্তারিত তথ্য।
২০২৬ সালে চৈত্র নবরাত্রি বা বাসন্তী পুজোর অষ্টমী কবে?
দৃক পঞ্চাঙ্গ ও পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী, এই বছর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথি শুরু হচ্ছে ২৫ মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে এবং এই তিথি শেষ হবে ২৬ মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে।
সনাতন ধর্মে 'উদয়া তিথি'-কে (সূর্যোদয়ের সময় যে তিথি থাকে) মান্যতা দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী, এই বছর ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) চৈত্র নবরাত্রির মহা অষ্টমী বা বাসন্তী পুজোর দুর্গা অষ্টমী পালিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে অষ্টমীর বিশেষ তাৎপর্য
১. অশোকাষ্টমী স্নান (Ashtami Snan)
বাংলার হিন্দু সমাজে চৈত্র শুক্লপক্ষের এই অষ্টমী তিথিটি 'অশোকাষ্টমী' নামেও সুপরিচিত। এই দিন 'অষ্টমী স্নান'-এর এক বিশেষ ধর্মীয় মাহাত্ম্য রয়েছে। পুণ্যার্থীরা বিশ্বাস করেন, অষ্টমীর এই পবিত্র লগ্নে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র বা যেকোনো পবিত্র নদী ও জলাশয়ে স্নান করলে সমস্ত পাপ ধুয়ে যায় এবং পুণ্য লাভ হয়। স্নানের পর অশোক গাছের আটটি কুঁড়ি ও পবিত্র জল দিয়ে দেবীর আরাধনা করার রীতি বাংলার অনেক প্রাচীন পরিবারে আজও প্রচলিত। এই স্নান রোগমুক্তি এবং পারিবারিক মঙ্গলের প্রতীক।
২. ঐতিহ্যবাহী অষ্টমী মেলা (Ashtami Mela)
পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ এবং আধা-শহর অঞ্চলগুলোতে বাসন্তী পুজো এবং অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নদীর ঘাট সংলগ্ন এলাকা এবং বাসন্তী পুজোর মণ্ডপের আশেপাশে বসে বিশাল 'অষ্টমী মেলা'। বিশেষ করে হাওড়া, হুগলি, মেদিনীপুর এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই মেলার আকর্ষণ প্রবল। মাটির পুতুল, নাগরদোলা, জিলিপি, পাঁপড় ভাজা থেকে শুরু করে লোকজ হস্তশিল্পের পসরা— সবকিছু মিলিয়ে এই মেলা বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতি ও অর্থনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
৩. সন্ধি পুজো ও কুমারী পুজো
শারদীয়া দুর্গাপুজোর মতোই বাসন্তী পুজোতেও অষ্টমী ও নবমী তিথির মিলনক্ষণে 'সন্ধি পুজো' অনুষ্ঠিত হয়। ২৬ মার্চ সকাল ১১:২৪ থেকে দুপুর ১২:১২ পর্যন্ত এই সন্ধিক্ষণ থাকবে। এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন মঠ ও মিশনে এই দিনটিতে কুমারী কন্যাদের দেবীজ্ঞানে আরাধনা বা 'কন্যা পুজো' সম্পন্ন হয়।
আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি বাসন্তী পুজো, অষ্টমী স্নান এবং গ্রামবাংলার এই অষ্টমী মেলা মূলত মানুষের সাথে মানুষের মেলবন্ধনের এক অনন্য উৎসব, যা বাংলার লোকসংস্কৃতিকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছে।
বাংলার ঐতিহ্য, উৎসব ও লোকসংস্কৃতির সমস্ত খবর পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ