কলকাতা, সংবাদ একলব্য: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে বড়সড় ধাক্কা খেল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির প্রতি সমর্থন জানালেন উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট রাজবংশী নেতা বংশীবদন বর্মন। একইসঙ্গে, পদ্ম শিবিরে যোগ দিলেন মেখলিগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং সাধারণ সম্পাদিকা লকেট চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তাঁদের গেরুয়া শিবিরের উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
বংশীবদন বর্মনের সমর্থন ও বড় প্রাপ্তি
গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের অন্যতম মুখ তথা রাজবংশী ভাষা অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান বংশীবদন বর্মন ২০১৬ সাল থেকে তৃণমূলের পাশেই ছিলেন। তবে এদিন তিনি বিজেপির প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর এই সমর্থনের পেছনে ভোটে লড়ার কোনো ইচ্ছা নেই, পুরোটাই রাজবংশী সমাজ এবং উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে।
বংশীবদন বর্মন বলেন, "কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আমার দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তাঁরা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে (8th Schedule) অন্তর্ভুক্ত করার এবং নারায়ণী ব্যাটালিয়ন গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটি আমাদের সম্প্রদায়ের জন্য একটি অনেক বড় পাওনা।" বিজেপির সংকল্পপত্রেও এই বিষয়গুলি স্থান পাবে বলে দলীয় নেতৃত্ব তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন। তাঁর পাশাপাশি রাজবংশী আন্দোলনের আরেক নেতা গিরিজাশঙ্কর রায়ও এদিন বিজেপিতে যুক্ত হন।
দুর্নীতির প্রতিবাদে দলত্যাগ অর্ঘ্য রায় প্রধানের
মেখলিগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রবীণ রাজনীতিক প্রয়াত অমর রায় প্রধানের ছেলে অর্ঘ্য রায় প্রধান এদিন তৃণমূলের লাগামহীন দুর্নীতিকে দায়ী করে দল ছাড়েন। তিনি বলেন, "যে দল দুর্নীতির সঙ্গে আপস করে চলে, তাদের সঙ্গে আর মানিয়ে নিতে পারছিলাম না। দুর্নীতিগ্রস্তরা যখন দলের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন মানুষের কাছে জবাবদিহি করার মতো কোনো মুখ থাকে দলীয় নেতা হিসেবে। তাই শুভেন্দু অধিকারী এবং শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।" তাঁর সঙ্গেই মেখলিগঞ্জ ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি বাপ্পা মণ্ডলও এদিন বিজেপিতে যোগ দেন।
তৃণমূল ও মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ শমীক-শুভেন্দুর
যোগদান পর্ব শেষে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শমীক ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধিকারী।
- শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে এখন লড়াইটা মমতা বনাম জনতার। এই সরকার কৃষক বিরোধী, শিল্প বিরোধী এবং শিক্ষা বিরোধী। আলু চাষিরা আজ আত্মহত্যা করছেন। যারা দুর্নীতির সমার্থক হয়ে গেছে, তাদের আর ক্ষমতায় রাখার কোনো কারণ নেই। এই সরকার এখন একটি জীবন্ত জীবাশ্ম।"
- শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের ভোটার তালিকা ও অনুপ্রবেশ নিয়ে সুর চড়িয়ে বলেন, "নির্বাচন কমিশনকে মুখ্যমন্ত্রীর বারবার আক্রমণের মূল কারণ হলো, তিনি বেআইনি বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্যে ধরে রাখতে চান। এই অনুপ্রবেশকারীরাই রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে দিচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে ৫১ হাজার ভুয়া ভোটারের নাম বাদ গেছে, যেগুলোর মালিক ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই হারের আতঙ্কে তিনি এখন এসব কথা বলছেন।"
রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজবংশী সমাজের এই প্রভাবশালী নেতা এবং প্রাক্তন বিধায়কের বিজেপিতে যোগদান উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে গেরুয়া শিবিরের হাত আরও শক্ত করল।
রাজ্য রাজনীতির সমস্ত সমীকরণ এবং বিধানসভা নির্বাচনের ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ