কাবুল, সংবাদ একলব্য: প্রতিবেশী দুই দেশ আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত এবার চরম আকার ধারণ করল। রবিবার আফগানিস্তানের পূর্ব দিকের কুনার প্রদেশের আসাদাবাদ (Asadabad) শহরের উপকণ্ঠে পাকিস্তান সেনার ভারী মর্টার হামলার অভিযোগ তুলল আফগান সরকার। এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত এক জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬ জনেরও বেশি সাধারণ নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা এবং শিশু। দুই দেশের মধ্যে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে এই মাত্রার তীব্র সংঘাত কার্যত নজিরবিহীন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
হামলার তীব্রতা ও আফগান প্রশাসনের ক্ষোভ
আফগানিস্তান সরকারের ডেপুটি মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত (Hamdullah Fitrat) একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আসাদাবাদ শহরের গ্রামীণ এলাকায় সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্র এবং মর্টারের গোলাবর্ষণ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আহতদের ছবি শেয়ার করে তিনি দাবি করেছেন, এই হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বারবার এই ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ দুই দেশের সম্পর্ককে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
সংঘাতের নেপথ্য কারণ কী?
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে এই চলতি সংঘাতের সূত্রপাত মূলত গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে।
- সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাসবাদ: পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে 'তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান' (TTP) বা পাকিস্তানি তালিবান জঙ্গিরা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালাচ্ছে।
- পালটা দাবি: অন্যদিকে, আফগান সরকার এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে এসেছে। উলটে তাদের দাবি, পাকিস্তান সন্ত্রাস দমনের নামে আফগান সীমান্তের ভেতরে ঢুকে সাধারণ নাগরিকদের ওপর লাগাতার বিমান এবং মর্টার হামলা চালাচ্ছে।
ভেস্তে গিয়েছে যুদ্ধবিরতিও
সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল ফিতর (Eid al-Fitr) উপলক্ষে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে (Ceasefire) সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সেই শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সেই যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পরপরই দুই দেশের সেনাবাহিনী ফের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকে অন্তত দুই জন সাধারণ আফগান নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
ভয়াবহ অতীত পরিসংখ্যান
এর আগে গত মার্চ মাসের শুরুতেই আফগানিস্তান দাবি করেছিল যে, কাবুলের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে (Drug Rehabilitation Hospital) পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যদিও পাকিস্তান এই দাবি সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়ে জানিয়েছিল যে, তারা কেবল জঙ্গিদের অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করেই নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘ (UN) বর্তমানে এই বিপুল সংখ্যক প্রাণহানির পরিসংখ্যানটি খতিয়ে দেখছে।
সব মিলিয়ে আল-কায়দা এবং ইসলামিক স্টেটের (IS) মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতির কারণে এমনিতেই এই অঞ্চলটি যথেষ্ট সংবেদনশীল। তার ওপর দুই দেশের সেনাবাহিনীর এই প্রত্যক্ষ সংঘাত গোটা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড়সড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সীমানা, বিশ্ব রাজনীতি এবং ব্রেকিং খবরের সমস্ত আপডেট পেতে চোখ রাখুন সংবাদ একলব্য-তে: sangbadekalavya.in
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in
0 মন্তব্যসমূহ