বিছানায় সাপের খোলস, উধাও যুবতী! ‘ইচ্ছাধারী নাগিন’ নাকি ধুরন্ধর প্রেমিকা? জানুন আজব কাণ্ড
অরাইয়া: সিনেমায় দেখা যায়, পূর্ণিমার রাতে ইচ্ছাধারী নাগিন রূপ পরিবর্তন করে মানুষ হচ্ছে, আবার কখনও সাপ। কিন্তু বাস্তবেও যে এমন দাবি উঠতে পারে, তা শুনে খোদ পুলিশও ভিমরি খেল! উত্তরপ্রদেশের অরাইয়া জেলার সিঙ্গনপুর গ্রামে ঘটল এক আজব ঘটনা। বিছানায় ৫ ফুটের সাপের খোলস রেখে উধাও বাড়ির মেয়ে, আর বাড়ির লোকের কান্না— মেয়ে তাঁদের 'নাগিন' (Ichchadhari Nagin) হয়ে গিয়েছে! তবে পুলিশি তদন্তে যা বেরিয়ে এল, তা হার মানাবে সিনেমাকেও।
ঘটনাটি ঘটে অরাইয়া জেলার সিঙ্গনপুর গ্রামে। রাকেশ বাল্মীকির ২৪ বছরের মেয়ে রিনা হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান। সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যরা দেখেন, রিনার বিছানা এলোমেলো। সেখানে রিনা নেই, কিন্তু পড়ে আছে প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা একটি সাপের খোলস। তার পাশেই খুলে রাখা রিনার আংটি ও একজোড়া চুড়ি।
এই দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বদ্ধমূল ধারণা জন্মে যে, তাঁদের মেয়ে আসলে মানুষ নয়, ‘ইচ্ছাধারী নাগিন’ (Ichchadhari Nagin)। সে আবার সর্পকুলে ফিরে গিয়েছে। মুহূর্তে এই খবর আগুনের মতো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। পাড়া-প্রতিবেশীরা ভিড় জমান ওই বাড়িতে। শুরু হয় ‘নাগিন-নাগিন’ বলে কান্নাকাটি ও হাহাকার।
গ্রামবাসীদের এই অদ্ভুত দাবির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশ কর্মীরাও প্রথমে ঘরের দৃশ্য দেখে অবাক হন। বিছানায় সত্যিই পড়ে ছিল বড় আকারের সাপের খোলস ও গয়না। কিন্তু কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসী ও পরিবারের দাবির (Ichchadhari Nagin) সঙ্গে একমত হতে পারেননি তদন্তকারী অফিসাররা।
পুলিশের সন্দেহ হয়, এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে। তাঁরা অবিলম্বে রিনার মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করা শুরু করেন। তদন্তে জানা যায়, ওই গ্রামেরই এক যুবকও সকাল থেকে নিখোঁজ। এরপরই পুলিশের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হতে শুরু করে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, রিনা নামের ওই যুবতী আসলে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছেন। তবে পালানোর আগে তিনি যে ‘মাস্টারপ্ল্যান’ সাজিয়েছিলেন, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। পুলিশ সূত্রে খবর, রাকেশ বাল্মীকি তাঁর ছোট মেয়ে রিনার বিয়ের জন্য পাত্র ঠিক করে ফেলেছিলেন। কিন্তু রিনা গ্রামেরই এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন।
বাড়ি থেকে পালানোর পরিকল্পনা হিসেবে রিনা কিছুদিন আগে থেকেই বাড়িতে গল্প ফাঁদতে শুরু করেন যে, তিনি স্বপ্নে প্রায়ই সাপ দেখছেন। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে তিনি কিছুদিন আগে মন্দির থেকে একটি সাপের মূর্তি কিনে আনেন। এরপর প্রেমিকের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে জোগাড় করেন ওই সাপের (Ichchadhari Nagin) খোলস।
পালানোর সময় তিনি নিজের গয়না এবং ওই সাপের খোলস বিছানায় সাজিয়ে রেখে যান, যাতে বাড়ির লোক ভাবে তিনি সাপ হয়ে চলে গিয়েছেন এবং তাঁকে খোঁজাখুঁজি না করে। তিনি বাড়ি থেকে কেবল ওই সাপের মূর্তিটি নিয়েই পালিয়েছেন।
পুলিশের কঠোর তদন্ত ও প্রযুক্তির ব্যবহারে ‘নাগিন’ তত্ত্ব ধোপে টেকেনি। রিনার বাবা রাকেশ বাল্মীকি অবশেষে বুঝতে পারেন যে মেয়ে নাগিন হয়নি, বরং প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়েছে। তিনি স্থানীয় ওই যুবকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
Sangbad Ekalavya Digital Desk
প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক। সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সঠিক তথ্যটি দ্রুততম সময়ে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের এই এডিটোরিয়াল টিমের প্রধান উদ্দেশ্য। সত্য ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাই আমাদের মূলমন্ত্র।
ইমেইল: editor@sangbadekalavya.in

0 মন্তব্যসমূহ