Latest News

6/recent/ticker-posts

Ad Code

শাসকদলের শিক্ষক সংগঠনের সভাতেই 'বেসুরো' শিক্ষক! সরকারি স্কুলের কঙ্কালসার দশা তুলে ধরতেই কেড়ে নেওয়া হলো মাইক!

শাসকদলের শিক্ষক সংগঠনের সভাতেই 'বেসুরো' শিক্ষক! সরকারি স্কুলের কঙ্কালসার দশা তুলে ধরতেই কেড়ে নেওয়া হলো মাইক! 

Cooch Behar News, Sitalkuchi, TMC Primary Teacher Association, Yasin Mia, West Bengal Government School Condition, Mic Snatched, Girindranath Barman, Rajat Barman, কোচবিহার সংবাদ, তৃণমূল শিক্ষক সমিতি, শীতলকুচি, সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো


কোচবিহার: শাসকদলের শিক্ষক সংগঠনের সভা। মঞ্চে উপস্থিত জেলা তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব। আর সেখানেই সরকারি স্কুলের বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে 'সত্যি কথা' বলতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়লেন এক শিক্ষক। অভিযোগ, অভাব-অভিযোগের কথা তুলতেই ভরা সভায় ওই শিক্ষকের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হলো মাইক্রোফোন। শনিবার কোচবিহারের শীতলকুচিতে ঘটা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক মহলে।

শনিবার শীতলকুচিতে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সভায় উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন, কোচবিহার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের (DPSC) চেয়ারম্যান রজত বর্মা সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব। সভার পরিবেশ তখন বেশ স্বাভাবিকই ছিল। বক্তব্য রাখতে ওঠেন শীতলকুচি আওয়ালী কুড়া চতুর্থ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইয়াচিন মিয়া।

মাইক হাতে নিয়েই ইয়াচিন মিয়া সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তিনি সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেন, "আজকের যুগে অভিভাবকরা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে তাঁদের সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে পড়াচ্ছেন। কেন? কারণ সরকারি স্কুলে সেই পরিকাঠামো নেই। স্কুলের দেওয়াল ভাঙা, ক্লাসরুমের অবস্থা শোচনীয়।"


এখানেই থামেননি তিনি। শিক্ষক নিয়োগ ও পঠনপাঠন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "স্কুলে যতগুলো ক্লাস রয়েছে, সেই অনুপাতে শিক্ষক নেই। আমরা রোজ স্কুলে আসি, ৪০-৫০ হাজার টাকা বেতন নিই, কিন্তু গ্রামের সাধারণ মানুষকে আমরা একপ্রকার ভুল বুঝিয়েই স্কুলে আনছি। পরিকাঠামোর অভাবেই ছাত্রছাত্রীরা এখন আর সরকারি স্কুলে আসতে চাইছে না।"


দলেরই এক শিক্ষকের মুখে এমন রূঢ় বাস্তব শুনে অস্বস্তিতে পড়ে যান মঞ্চে বসা নেতারা। ইয়াচিন মিয়ার বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি তাঁর হাত থেকে মাইক কেড়ে নেওয়া হয়। তাঁকে থামিয়ে দেওয়া হয় এবং বসে পড়তে বলা হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে যান উপস্থিত সাধারণ শিক্ষকরাও।


যদিও এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের নেতৃত্বের দাবি ভিন্ন। তাঁদের বক্তব্য, ওই শিক্ষক সংগঠনের আলোচনার নির্ধারিত বিষয়বস্তু বা 'এজেন্ডা'-র বাইরে গিয়ে কথা বলছিলেন। সভার শৃঙ্খল রক্ষার স্বার্থেই তাঁর হাত থেকে মাইক নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধীদের কটাক্ষ, সত্যি কথা বলার সাহস দেখাতেই কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code